প্রতিবেদন প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, সময়ঃ ১২:২৭
দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা শেষে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। বহুল প্রতীক্ষিত এই বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেছে তীব্র মতবিরোধ ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং মধ্যপ্রাচ্যে দুই দেশের প্রভাব বিস্তার। বৈঠকের শুরুতে কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত মিললেও সময় যত গড়িয়েছে, ততই অবস্থান কঠোর করেছে উভয় পক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্র-এর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে গোপনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, ইরান স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের পূর্ণ সহযোগিতা দিচ্ছে না।
অন্যদিকে ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-কে দায়ী করে বলেছে, ওয়াশিংটন একতরফাভাবে পূর্ববর্তী চুক্তি থেকে সরে গিয়ে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞাই তাদের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং আলোচনায় আস্থার পরিবেশ নষ্ট করেছে।
বৈঠক-পরবর্তী বিবৃতিতে উভয় পক্ষই একে অপরকে “অবিশ্বাসযোগ্য” এবং “চুক্তিভঙ্গকারী” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। কূটনৈতিক মহল বলছে, এই ধরনের কঠোর ভাষা ভবিষ্যৎ সংলাপের পথকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার ভাঙনের পেছনে শুধু পরমাণু ইস্যুই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বড় ভূমিকা রেখেছে। সিরিয়া, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব এই আলোচনাকে আরও জটিল করে তোলে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেকেই এই আলোচনার দিকে তাকিয়ে ছিল সম্ভাব্য উত্তেজনা কমানোর একটি সুযোগ হিসেবে। কিন্তু আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় এখন নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলো নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এদিকে কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যদিও এই দফার আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে, তবুও ভবিষ্যতে সংলাপের দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। তবে কোনো নতুন উদ্যোগ সফল করতে হলে উভয় পক্ষকেই আপসের মনোভাব দেখাতে হবে এবং পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।
সব মিলিয়ে, ২১ ঘণ্টার এই দীর্ঘ আলোচনা শেষ পর্যন্ত নতুন কোনো সমাধান না এনে বরং পুরোনো সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে—যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।