প্রতিবেদন প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, সময়ঃ ০৩:২৯
জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কিউআর কোড স্ক্যান করেই জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন চালকরা। এই লক্ষ্যে ‘ফুয়েল পাস’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জ্বালানি বিভাগ এই নতুন উদ্যোগের কথা জানায়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) উদ্যোগে তৈরি এই অ্যাপটি প্রাথমিকভাবে রাজধানীর দুটি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে।
বর্তমানে ঢাকার তেজগাঁও এলাকার ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন এবং আসাদগেটের সোনার বাংলা ফুয়েল স্টেশনে এই পাইলটিং কার্যক্রম চলছে। প্রথম পর্যায়ে শুধুমাত্র মোটরসাইকেল চালকরা এই অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন। পরীক্ষামূলক এই কার্যক্রম সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব ধরনের যানবাহনের জন্য ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক করা হবে।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, প্রচলিত ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে তেল বিতরণের কারণে বেশ কিছু জটিলতা দেখা দিচ্ছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও পাম্পগুলোতে দীর্ঘ যানজট ও লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া একই ব্যক্তি বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ করায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব সমস্যা দূর করতেই ডিজিটাল এই পদ্ধতি আনা হয়েছে।
নিবন্ধিত প্রতিটি ব্যবহারকারীর জন্য একটি নির্দিষ্ট কিউআর কোড থাকবে, ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নেওয়ার সময় চালককে তার কোডটি স্ক্যান করতে হবে। কোড স্ক্যান করার সাথে সাথে চালকের জন্য নির্ধারিত তেলের পরিমাণ দেখা যাবে এবং সেই অনুযায়ী তিনি তেল নিতে পারবেন।
এর ফলে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে সারা দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে মনিটর করা সম্ভব হবে। যাদের স্মার্টফোন নেই, তাদের জন্যও বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে কিউআর কোডটি ডাউনলোড করতে পারবেন এবং সেটি প্রিন্ট করে পাম্পে প্রদর্শন করে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন।
জ্বালানি বিভাগ আরও জানিয়েছে, এই ডিজিটাল সিস্টেমটি সরাসরি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কেন্দ্রীয় ডাটাবেজের সাথে যুক্ত থাকবে। এর ফলে যানবাহনের সঠিক তথ্য যাচাই করা সহজ হবে এবং তেল চুরিসহ সকল প্রকার অনিয়ম রোধ করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যাবে।