প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, সময়ঃ ০৭:৫৩
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘোষিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধবিরতির রেশ কাটতে না কাটতেই লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এই হামলার সময়কাল ও মাত্রা ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি এই অভিযান ছিল যুদ্ধবিরতি ভণ্ডুল করার কৌশল?
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের এই হামলার লক্ষ্য ছিল লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটি। তেলআবিবের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ফলে এটি কোনোভাবেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন নয়, বরং চলমান নিরাপত্তা অভিযানের অংশ।
তবে ভিন্ন সুর শোনা যাচ্ছে ইরান, লেবানন এবং আন্তর্জাতিক মহলের বিভিন্ন পক্ষ থেকে। তাদের মতে, এই হামলা সরাসরি যুদ্ধবিরতির চেতনার পরিপন্থী এবং এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ইতোমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ শান্তি প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির সীমা ও ব্যাখ্যা নিয়েই মূলত এই দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। একদিকে ইসরায়েল এটিকে আলাদা সামরিক ফ্রন্ট হিসেবে দেখাতে চাইছে, অন্যদিকে বিরোধী পক্ষগুলো এটিকে বৃহত্তর সংঘাতেরই অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।
সব মিলিয়ে, লেবাননে এই হামলা শুধু তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির কারণই নয়, বরং সদ্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়েও গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন নির্ভর করছে কূটনৈতিক তৎপরতা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।