প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, সময়ঃ ০৯:১০
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে সরকারি ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কার্যক্রমে চাল ও আটা বিক্রিতে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত এই খাদ্যপণ্য আত্মসাতের দায়ে দুই ডিলারের দোকান সিলগালা করেছে খাদ্য অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল ২০২৬) কামরাঙ্গীরচরের ডি/৪ রেশনিং এলাকায় খাদ্য অধিদপ্তরের একটি বিশেষ টিম এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ডিলার মোঃ সোহেল (৭৫, পশ্চিম বড়গ্রাম) এবং মোঃ আরিফুর ইসলামের (১৫, টেকেরহাটি) দোকান দুটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন খাদ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ সেলিমুল আজম।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওএমএসের চাল ও আটা নির্ধারিত কেন্দ্রে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি না করে গোপনে কালোবাজারে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মজুতকৃত চাল ও আটা জব্দ করা হয়, যা পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ,করেশনিং কর্মকর্তা তারিকুজ্জামান ও ইন্সপেক্টর হাদী ইমরুলের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। কর্মকর্তা মামুন নিজের ছোট ভাইয়ের নামে ডিলারশিপ পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ডিলার রমিজ উদ্দিন কায়েসের দোকানেও অভিযানে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এবং অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেটটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাদ্যপণ্য আত্মসাৎ করে আসছে।
অভিযান পরিচালনাকারী দলের প্রধান মোঃ সেলিমুল আজম জানান, সরকারি কর্মসূচিতে কোনো ধরনের স্বচ্ছতাহীনতা বা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। ওএমএস কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফেরাতে এই ধরনের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত মূল্যে খাদ্য পাওয়ার এই সরকারি সুবিধা থেকে সাধারণ মানুষ যাতে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারি জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।