নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে ইরানে ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান: কেন নিজেদের উড়োজাহাজ ধ্বংস করল যুক্তরাষ্ট্র?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, সময়ঃ ০৩:৩৭

কামাল পাশা 
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক    

ইরানের আকাশে গুলি করে ভূপাতিত হয় একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান। এরপর শুরু হয় এক নাটকীয় ও উচ্চঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযান—যা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে সাহসী সামরিক মিশনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত, যখন একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ইরানের ভেতরে ভূপাতিত হয় এবং দুই ক্রু সদস্য ইজেক্ট করে আলাদা স্থানে অবতরণ করেন। একজনকে দ্রুত উদ্ধার করা গেলেও অন্যজন দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আটকা পড়ে যান।

নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধার করতে যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ বাহিনী, যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার এবং পরিবহন বিমানসহ বড় ধরনের অভিযান চালায়। কয়েক ডজন বিমান ইরানের ভেতরে প্রবেশ করে এবং স্থানীয় বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। উদ্ধারকৃত ক্রু সদস্য প্রায় দুই দিন শত্রু এলাকায় লুকিয়ে ছিলেন বলে জানা যায়।

পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে এবং ইরানি বাহিনী এলাকা ঘিরে ফেলতে শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তখনই নিজেদের কিছু ক্ষতিগ্রস্ত বা অবতরণ করা উড়োজাহাজ ধ্বংস করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত তিনটি কারণ কাজ করেছে। প্রথমত, অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি শত্রুর হাতে পড়া ঠেকানো। দ্বিতীয়ত, ধ্বংস না করলে সেসব বিমান ইরান ব্যবহার করতে পারত বা গোয়েন্দা বিশ্লেষণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে পারত। তৃতীয়ত, অভিযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—ক্ষতিগ্রস্ত বিমান রেখে গেলে তা উদ্ধার বাহিনীর অবস্থান ফাঁস করতে পারত।

এদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তারা একাধিক শত্রু উড়োজাহাজ ধ্বংস করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা পরিকল্পিতভাবেই কিছু বিমান ধ্বংস করেছে এবং সব ক্রুকে সফলভাবে উদ্ধার করতে পেরেছে।

এই পুরো ঘটনাটি আধুনিক যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা তুলে ধরে—যেখানে একটি জীবন বাঁচাতে এবং সামরিক গোপনীয়তা রক্ষায় নিজেদের সম্পদ ধ্বংস করতেও দ্বিধা করে না কোনো দেশ।