প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬, সময়ঃ ০১:১১
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে চট্টগ্রাম বন্দরে বৃদ্ধি পেয়েছে জ্বালানি তেলের সরবরাহ। আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোরে সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছেছে হংকংয়ের পতাকাবাহী জাহাজ ‘ইয়ান জিং হে’। বন্দর সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই বিশাল সরবরাহ সেচ মৌসুম এবং শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, আজ শুক্রবার রাতেই মালয়েশিয়া থেকে আরও একটি জাহাজ বন্দরে নোঙর করার কথা রয়েছে। এই দ্বিতীয় জাহাজটিতে রয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার টন ডিজেল। একদিনের ব্যবধানে এই দুটি জাহাজে করে মোট ৬১ হাজার টন ডিজেল দেশে পৌঁছাবে, যা বর্তমান চাহিদা মেটাতে বড় ধরনের জোগান দেবে।
শিপিং এজেন্ট ‘প্রাইড’-এর স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুর থেকে আসা প্রথম জাহাজটি বর্তমানে ডলফিন জেটিতে বার্থিং বা নোঙরের অপেক্ষায় রয়েছে। আজ রাতে যে জাহাজটি আসার কথা রয়েছে তার নাম ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান’। বন্দর কর্তৃপক্ষ দ্রুততার সাথে এসব জ্বালানি পণ্য খালাসের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
সদ্য সমাপ্ত মার্চ মাসেও চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি আমদানির ব্যাপক তোড়জোড় দেখা গেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট জ্বালানি জাহাজ ৩৩টি , ডিজেল ও তেলবাহী জাহাজ ১৫টি , এলএনজিবাহী জাহাজ ৮টি , এলপিজিবাহী জাহাজ ৯টি এসেছে ।
রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের (LPG) চাহিদা মেটাতে মার্চ মাসে আসা ৯টি জাহাজ বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। এসব জাহাজের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন এলপিজি খালাস করা হয়েছে। বড় বড় মাদার ভ্যাসেল থেকে লাইটারেজ প্রক্রিয়ায় ওমেরা, বেক্সিমকো এবং যমুনার মতো শীর্ষস্থানীয় আমদানিকারকরা তাদের পণ্য সংগ্রহ সম্পন্ন করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমোডর আহমেদ আমিন আব্দুল্লাহ জানান, দেশের বর্তমান চাহিদা বিবেচনায় ‘ইয়ান জিং হে’জাহাজটিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জেটিতে জায়গা করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আগামীকাল শনিবার একটি এলএনজি পরিবাহী জাহাজও বন্দরে আসার কথা রয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘব এবং জাতীয় চাহিদা পূরণে দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করা হচ্ছে।