ইরানে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, সংঘাত শেষের ইঙ্গিত দিয়েও উত্তেজনা তুঙ্গে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, সময়ঃ ১২:৩৪

ইরানের ওপর অতর্কিত হামলার এক মাস পর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । বুধবার রাতে হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এই ভাষণে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা ‘প্রায় শেষের দিকে’ বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করলেও ইরানের ওপর আরও ‘অত্যন্ত কঠোর আঘাত’ হানার হুমকি দিয়েছেন। মূলত অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকটের মুখে ট্রাম্প এই ভাষণ প্রদান করেন।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব শীঘ্রই তার সামরিক লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। তবে তেহরানকে লক্ষ্য করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, লক্ষ্য পূরণের দ্বারপ্রান্তে থাকলেও প্রয়োজনে ইরানের ওপর অত্যন্ত কঠিন ও শক্তিশালী আঘাত হানা হবে।


২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার যৌক্তিকতা তুলে ধরে ট্রাম্প জানান, এটি তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অংশ। ২০১৫ সালে নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই তিনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের মতে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের খুব কাছাকাছি ছিল এবং বিশ্ব শান্তির স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান যতদিন পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের পথ থেকে সরে না আসবে, ততদিন যুক্তরাষ্ট্র পিছু হটবে না।


মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র ছয় মাস আগে শুরু হওয়া এই সংঘাত ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এক গ্যালন পেট্রোলের দাম ৪ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা। সম্প্রতি বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ আমেরিকান এই সংঘাতের বিরোধিতা করছেন।


মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতাদের প্রাণহানি এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে রেখেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে এবং ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। ট্রাম্প এই মূল্যবৃদ্ধিকে ‘সাময়িক’ বলে অভিহিত করেছেন।


ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের সাথে আলোচনা চলমান রয়েছে। তবে ইরানি নেতারা এই দাবি অস্বীকার করেছেন। এর আগে পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো ট্রাম্পের ১৫টি দাবি কিংবা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে ট্রাম্প ভাষণে কোনো মন্তব্য করেননি। উল্টো ইরান সরকার যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণসহ নিজস্ব কিছু শর্ত আরোপ করেছে।

সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী অবস্থান—একদিকে যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত এবং অন্যদিকে আরও হামলার হুমকি—মধ্যপ্রাচ্য তথা বিশ্ব রাজনীতিতে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।