বিশ্বের বৃহত্তম আদমশুমারি শুরু করছে ভারত: অংশ নিচ্ছেন ৩০ লাখ কর্মী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৪:২৫

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হিসেবে পরিচিত ভারতে আগামীকাল বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে বিশালাকার এক কর্মযজ্ঞ। প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের সঠিক পরিসংখ্যান জানতে বিশ্বের বৃহত্তম আদমশুমারি শুরু করতে যাচ্ছে ভারত সরকার। বছরব্যাপী চলমান এই বিশাল প্রক্রিয়ায় মাঠ পর্যায়ে কাজ করবেন ৩০ লাখেরও বেশি সরকারি কর্মকর্তা।

 

ভারত সরকার এই আদমশুমারিকে ১.২৪ বিলিয়ন ডলারের একটি ‘জাতীয় গুরুত্বের বিশাল উদ্যোগ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার মৌলিক চাহিদা যেমন— বিদ্যুৎ, খাদ্য ও আবাসনের সংস্থান নিশ্চিত করতে সঠিক তথ্যের প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে পানি সংকট, দূষণ এবং জনাকীর্ণতা নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক নীতি প্রণয়নে এই তথ্যগুলো সরকারকে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

এই বিশাল আদমশুমারিটি মোট দুটি ধাপে সম্পন্ন করা হবে বুধবার থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত চলবে প্রথম পর্যায়ের কাজ। এই ধাপে বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবাসন ব্যবস্থা ও নাগরিকদের প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধার তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

 

তথ্যের নির্ভুলতা বজায় রাখতে এবার স্যাটেলাইট চিত্রের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। ১৬টি ভাষায় এই অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা চাইলে নিজেও নিজেদের তথ্য প্রদান (Self-enumeration) করতে পারবেন। জনসংখ্যার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এতে নাগরিকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ‘বর্ণ’ সম্পর্কিত তথ্যও নেয়া হবে।

 

ভারতীয় সমাজে মানুষের পেশা ও সামাজিক মর্যাদা নির্ধারণে এখনো বর্ণ প্রথা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৩১ সালের পর ভারতে বিস্তৃত আকারে কোনো বর্ণ সমীক্ষার তথ্য জনসম্মুখে আনা হয়নি। এমনকি ২০১১ সালের সমীক্ষাও অপ্রকাশিত ছিল। তবে এবারের গণনায় শিক্ষা, সম্পদ ও সুযোগের সমবণ্টন নিশ্চিতে এই বিতর্কিত বর্ণ ইস্যুটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

২০১১ সালের সর্বশেষ হিসেবে ভারতের জনসংখ্যা ছিল ১২১ কোটি। যদিও ২০২৩ সালে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনকে টপকে ভারত এখন বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ। করোনা মহামারীর কারণে ২০২১ সালে এই আদমশুমারি হওয়ার কথা থাকলেও তা দীর্ঘ সময় পিছিয়ে যায়।

 

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ মার্চের মধ্যে সারা দেশের এই গণনা কাজ শেষ করা হবে। বিশেষ করে হিমালয়ের দুর্গম এলাকা এবং জম্মু-কাশ্মীরে প্রবল তুষারপাত শুরুর আগেই সেখানকার কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।