প্রতিবেদন প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ১১:৫৪
কামাল পাশা
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর রাজনৈতিক শিবিরের ভেতরেই বিভাজনের আভাস মিলছে। তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ও দলীয় নেতাদের মধ্যে কেউ সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের পক্ষে মত দিচ্ছেন, আবার কেউ কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে স্থল অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও বড় চাপ তৈরি করবে। এই বাস্তবতায় ট্রাম্পপন্থী নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ সতর্ক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কিছু ‘হার্ডলাইনার’ মনে করছেন, ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে আনতে শক্ত অবস্থান নেওয়া জরুরি। তাদের মতে, প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে স্থল অভিযান চালিয়ে কৌশলগত সুবিধা অর্জন করা সম্ভব।
এই দ্বিমত ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির দিকনির্দেশনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে, তিনি যদি আবার ক্ষমতায় আসেন, তাহলে ইরান ইস্যুতে তার প্রশাসন কী ধরনের অবস্থান নেবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কূটনৈতিক মহলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সরাসরি স্থল অভিযান শুরু করে, তবে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি বৃহৎ সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
সর্বশেষ পরিস্থিতি বলছে, ট্রাম্প শিবিরের এই অভ্যন্তরীণ মতভেদ শুধু একটি কৌশলগত বিতর্ক নয়—এটি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য যুদ্ধ ও শান্তির পথ নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।