প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৬:৪০
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিজেদের সামরিক উপস্থিতিকে আরও শক্তিশালী করছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের এক মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর পেন্টাগনের বিশেষ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হাজার হাজার মার্কিন নৌ ও মেরিন সেনা এই অঞ্চলে পৌঁছেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলি এখন তার নির্ধারিত অপারেশনাল এলাকায় অবস্থান করছে। এই বিশাল যুদ্ধজাহাজটির কর্মপরিধি উত্তর-পূর্ব আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। ইউএসএস ত্রিপোলির নেতৃত্বে একটি বিশেষ 'অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ' মোতায়েন করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সেনা নিয়োজিত রয়েছেন। উল্লেখ্য, এই রণতরিটি এর আগে জাপানের উপকূলীয় অঞ্চলে মোতায়েন ছিল।
নিরাপত্তার স্বার্থে পেন্টাগন বা সেন্টকম এই বিপুল সংখ্যক সেনার সঠিক অবস্থান সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি।
এদিকে, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ইরানের প্রসঙ্গে তিনি জানান যে, ইরানে কোনো ধরনের স্থলবাহিনী মোতায়েন না করেই যুক্তরাষ্ট্র তার লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম। চলমান সংঘাতের সময়সীমা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এই যুদ্ধ কয়েক মাস নয়, বরং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হতে পারে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক ও বড় ধরনের সেনা মোতায়েন বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে একদিকে যেমন শক্তির মহড়া হিসেবে দেখা হচ্ছে, তেমনি এটি আঞ্চলিক উত্তেজনাকে নতুন করে উসকে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক শক্তি বৃদ্ধি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে আগামী দিনগুলোতে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।