প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০২:৩০
ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী একটি সীমিত স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি এবং প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। মূলত কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদার এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু অর্জনেই এই প্রস্তুতির কথা ভাবা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সম্ভাব্য অভিযানটি কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ নয়। বরং মার্কিন বিশেষ বাহিনী (Special Forces) এবং নিয়মিত পদাতিক বাহিনীর সমন্বয়ে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে এই সামরিক কার্যক্রম চালানো হতে পারে। অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে হরমুজ প্রণালির উপকূলীয় এলাকা এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ।
উল্লেখ্য যে, ইরান তাদের উৎপাদিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ এই খার্গ দ্বীপের মাধ্যমেই বিশ্ববাজারে রপ্তানি করে। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং কৌশলগত সুবিধা লাভের লক্ষ্যেই এই এলাকাটিকে টার্গেট করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনেকটা এগিয়ে থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত সেনা মোতায়েনের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো অনুমোদন দেননি। প্রশাসনের অভ্যন্তরেও এই অভিযানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভিন্নমত পরিলক্ষিত হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানান, স্থল সেনা মোতায়েন ছাড়াই আমেরিকা তাদের লক্ষ্যসমূহ অর্জন করতে সক্ষম।
অন্যদিকে, অভিযানের সময়সীমা নিয়েও রয়েছে অস্পষ্টতা। কোনো কোনো সূত্র এটি কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হওয়ার কথা বললেও, অন্য কিছু সূত্রের দাবি—পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি কয়েক মাস পর্যন্ত চলতে পারে।
সামগ্রিক বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান দায়িত্ব হলো সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি রাখা। এতে করে কমান্ডার-ইন-চিফ বা প্রেসিডেন্ট যেকোনো জরুরি মুহূর্তে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।