প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৮:১০
চলমান ইরান যুদ্ধ বিশ্ব সামরিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান পালান্টিয়ার টেকনোলজিসের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা শ্যাম শঙ্কর জানিয়েছেন, এই যুদ্ধেই প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এত বড় পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চলমান এই সংঘাত ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ, বিভিন্ন দেশের সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থা ইতোমধ্যে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে যুদ্ধ পরিচালনায় নতুন ধারা তৈরি করছে।
শ্যাম শঙ্করের মতে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই যুদ্ধকে কেবল একটি সামরিক সংঘর্ষ হিসেবে নয়, বরং প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের সূচনা হিসেবে দেখবে। তিনি বলেন, মানুষ একসময় স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বলবে—এটাই ছিল প্রথম বড় যুদ্ধ, যা সত্যিকার অর্থে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা পরিচালিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুধু চালকবিহীন উড়োজাহাজ নিয়ন্ত্রণ বা লক্ষ্য নির্ধারণে সীমাবদ্ধ নয়। বরং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, রসদ ব্যবস্থাপনা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এতে যুদ্ধ পরিচালনা আরও দ্রুত, নির্ভুল এবং কার্যকর হয়ে উঠছে—যা আগে কেবল কল্পবিজ্ঞানের গল্প বা চলচ্চিত্রেই দেখা যেত।
তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই ব্যাপক ব্যবহার নতুন উদ্বেগও তৈরি করেছে। স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ নৈতিকতা, মানবিকতা এবং নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, প্রযুক্তির এই অগ্রগতি নিয়ন্ত্রণহীন হলে ভবিষ্যতে এর পরিণতি আরও জটিল হতে পারে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সফল প্রয়োগ বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোকে তাদের প্রতিরক্ষা কৌশল নতুনভাবে সাজাতে বাধ্য করবে। ফলে ভবিষ্যতের যুদ্ধ কেবল অস্ত্রের শক্তিতে নয়, বরং গণনাপদ্ধতি ও তথ্যনির্ভর সক্ষমতার লড়াইয়ে পরিণত হবে।