‘ইরান শেষ’ বলে নতুন আরেক দেশকে টার্গেট করলেন ট্রাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০১:৪২

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানে ইতিমধ্যে শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটে গেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় মিয়ামিতে আয়োজিত এক অর্থনৈতিক বিনিয়োগ সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে তিনি জানান, মার্কিন বাহিনী ইরানের ওপর অত্যন্ত শক্তিশালী আঘাত হেনেছে। ট্রাম্পের মতে, বর্তমানে ইরান বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে।

 

সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন সামরিক অভিযানে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তার মতে, দেশটির এখন নিজস্ব কোনো বিমানবাহিনী বা কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অবশিষ্ট নেই। ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন যে, তারা ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করেছেন এবং তার ছেলে গুরুতর আহত অবস্থায় আছেন বলে খবর রয়েছে।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, এখন পর্যন্ত ইরানের মোট ৩ হাজার ৪৫০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া আরও সমপরিমাণ লক্ষ্যবস্তু এখনো তাদের তালিকায় রয়েছে। তবে তেহরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। ইরানকে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো খুব দ্রুতই ইরানের প্রভাব ও সন্ত্রাস থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে।

 

সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক আক্রমণকে ‘অপ্রত্যাশিত’ বলে অভিহিত করেন ট্রাম্প। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি তেহরানকে অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

ইরান ইস্যুতে কথা বলার পাশাপাশি কিউবা নিয়েও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, কিউবার নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা শুরু হলেও প্রয়োজন পড়লে সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে তিনি দ্বিধা করবেন না। ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেন, “কিউবা হবে আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য।”

 

অন্যদিকে, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তায় ন্যাটো দেশগুলো সামরিক সহায়তা না দেওয়ায় তিনি এই বিরক্তি প্রকাশ করেন। ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন ন্যাটোর প্রতিরক্ষায় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে, কিন্তু তাদের অসহযোগিতার কারণে ভবিষ্যতে সামরিক সহায়তার অনুরোধ এলেও যুক্তরাষ্ট্র তাতে সাড়া নাও দিতে পারে।