প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৬:১৬
দেশের বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনীতির বহুমুখী চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের মধ্যে সঞ্চয়পত্রের প্রতি আগ্রহ লক্ষ্যণীয়ভাবে বেড়েছে। ব্যাংক খাতের অস্থিরতা এবং শেয়ারবাজারের মন্দা পরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন সবচেয়ে নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে সরকারি সঞ্চয়পত্রকেই বেছে নিচ্ছেন।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি মাসে সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ এসেছে প্রায় ১ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। এর অর্থ হলো, ওই মাসে আগের গ্রাহকদের আসল ও মুনাফা পরিশোধ করার পরও সরকারের কোষাগারে বড় অংকের এই অর্থ জমা হয়েছে। গত সাত মাসের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ মাসেই সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে এমন একটি মাধ্যম খুঁজছেন যেখানে ঝুঁকি নেই। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন জানান, ব্যাংক ও আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের মন্দার ফলে সাধারণ মানুষ বিকল্প খুঁজছিলেন। সঞ্চয়পত্র যেহেতু সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত, তাই মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা সবার উপরে।
বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার (সর্বোচ্চ ১১.৯৮%) ট্রেজারি বিল বা বন্ডের তুলনায় অনেক বেশি। এছাড়া সরকার বেশ কিছু নিয়ম শিথিল করায় সাধারণ মানুষের বিনিয়োগ সহজ হয়েছে:
চলতি অর্থবছরে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। অর্থবছরের প্রথম সাত মাসেই (জুলাই-জানুয়ারি) নিট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩১২ কোটি টাকা। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ উল্টো; তখন মানুষ সঞ্চয়পত্র কেনার চেয়ে ভাঙানোর দিকেই বেশি ঝুঁকেছিল।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে বর্তমানে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র প্রচলিত রয়েছে:
১. পরিবার সঞ্চয়পত্র: ৫ বছর মেয়াদে মুনাফার হার ১১.৮০% থেকে ১১.৯৩%।
২. পেনশনার সঞ্চয়পত্র: প্রবীণদের জন্য সর্বোচ্চ ১১.৯৮% পর্যন্ত মুনাফা।
৩. ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র: বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী ১১.৮০% থেকে ১১.৮৩% মুনাফা।
৪. ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র: প্রতি তিন মাস অন্তর মুনাফা গ্রহণের সুবিধা, হার ১১.৭৭% থেকে ১১.৮২%।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।