এক সপ্তাহে আসছে তিন এলএনজি ট্যাংকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৫:৩৯

দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে চট্টগ্রাম বন্দরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে আসছে তিনটি বড় ট্যাংকার। ইতোমধ্যে একটি জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমায় এসে পৌঁছেছে এবং বাকি দুটি আগামী বুধবারের মধ্যে বন্দরে ভিড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এই তিন ট্যাংকারে সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার টন এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে।

 

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬১ হাজার ৯৯৭ টন এলএনজি নিয়ে ‘এইচএল পাফিন’ নামের একটি ট্যাংকার গত বৃহস্পতিবার কুতুবদিয়া উপকূলে এসে পৌঁছেছে।

 

বাকি দুই জাহাজের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৬১ হাজার টন এলএনজি নিয়ে আসছে ‘নিউ ব্রেভ’ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৭০ হাজার টন গ্যাস নিয়ে আসছে ‘সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস’। স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ উপমহাব্যবস্থাপক মো. নুরুল আলম জানিয়েছেন, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী বুধবারের মধ্যে জাহাজ দুটি বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

 

সাধারণত বাংলাদেশের এলএনজি আমদানির বড় অংশ (প্রায় ৭০ শতাংশ) আসে কাতার থেকে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কাতার থেকে সরবরাহ কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে কাতার থেকে দুটি জাহাজ আসার কথা থাকলেও সেগুলো এখনো পৌঁছাতে পারেনি। এর মধ্যে একটি জাহাজ কাতার বন্দরে পণ্যবোঝাই অবস্থায় আটকে আছে।

 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে প্রতি মাসে ১০ থেকে ১১টি এলএনজি ট্যাংকার দেশে আসলেও চলতি মাসে এখন পর্যন্ত সাতটি জাহাজ এসেছে।

 

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে তারা বিকল্প দেশগুলো থেকে এলএনজি আমদানির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও, আপাতত দেশে বড় ধরনের কোনো জ্বালানি সংকট হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।