প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০২:১৮
কৌশলগতভাবে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’গত চার সপ্তাহ ধরে কার্যত অচল হয়ে রয়েছে। পারস্য উপসাগরে ইরানের ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার আশঙ্কায় এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে, যা ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে সরবরাহ করা হয়। টানা এক মাস পথটি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। শুধু জ্বালানি নয়, বিশ্বজুড়ে খাদ্য উৎপাদনে অপরিহার্য সারের একটি বড় অংশ এই পথেই সরবরাহ করা হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদী এই অচলাবস্থা বৈশ্বিক খাদ্য সংকটেরও জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, অবরোধ তুলে নিতে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে আরও হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। এছাড়া তেলবাহী জাহাজগুলোকে মার্কিন নৌবাহিনীর সরাসরি পাহাড়ায় (Convoy)পার করে দেওয়ার একটি প্রস্তাবও বিবেচনাধীন রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানান, "বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে নৌপথ উন্মুক্ত রাখা হবে।"
মার্কিন সামরিক তৎপরতা বাড়লেও রণক্ষেত্রে ইরানের পাল্লা এখনো বেশ ভারী। ইরান সরাসরি যুদ্ধে না গিয়ে সস্তা কিন্তু কার্যকর ড্রোন এবং সমুদ্রমাইনের (Sea Mines) ব্যবহার বাড়িয়েছে, যা আধুনিক নৌবাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। হরমুজ প্রণালির সংকীর্ণ অবস্থান ইরানের মূল ভূখণ্ডের খুব কাছে হওয়ায় তারা সহজেই ওপর থেকে নজরদারি ও হামলা চালাতে পারছে। হাজার হাজার মাইল বিস্তৃত সমুদ্রপথে প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজকে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা দেওয়া মার্কিন বা মিত্র দেশগুলোর নৌবাহিনীর জন্য অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে অচলাবস্থা দ্রুত কাটার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তেহরান তাদের অবস্থানে অনড় থাকায় এবং ওয়াশিংটন সামরিক শক্তি বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নামতে পারে।