প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০১:৪৪
দীর্ঘদিন উত্তপ্ত থাকার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা এবং হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার খবরে গত ছয় মাসের মধ্যে তেলের বাজারে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতন লক্ষ করা যাচ্ছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে উল্লেখযোগ্য নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে । ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১০৭.১৭ ডলারে নেমেছে, যা আগের দিনের তুলনায় ০.৮ শতাংশ কম। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ১.১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯৩.৪৬ ডলারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সাথে ইরানের যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে—এমন খবর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ১০ দিনের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দাম কমার ক্ষেত্রে প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।
যদিও আগের দিন যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় দাম কিছুটা বেড়েছিল, তবে পুরো সপ্তাহের হিসেবে বাজার এখন নিম্নমুখী।
বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে এখনো উদ্বেগ কাটেনি। চলমান সংঘাতের কারণে প্রতিদিন প্রায় ১১ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা বাজারে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে রেখেছে। এদিকে মার্কিন প্রস্তাবকে ইরান 'একতরফা' বলে মন্তব্য করায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে সেনা মোতায়েনের ফলে স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, তেলের বাজারের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ নির্ভর করছে যুদ্ধের স্থায়িত্বের ওপর। "যদি যুদ্ধ দ্রুত শেষ হয়, তবে দাম আরও কমবে। কিন্তু সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারে।"
আপাতত বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকে।