ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন ট্রাম্প! তেহরানের তীব্র প্রত্যাখ্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৩:০৩

ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন বলে এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রিপাবলিকান পার্টির এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে তিনি এই দাবি করেন। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত সমর্থকদের জানান, ইরান তাকে অনানুষ্ঠানিকভাবে দেশটির সর্বোচ্চ পদের প্রস্তাব দিয়েছিল। নিজের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, “আমি তাদের সরাসরি না বলে দিয়েছি। তারা চেয়েছিল আমি তাদের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হই, কিন্তু আমার এ ধরনের কোনো ইচ্ছা নেই।”

 

একইসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভাবনীয় জয়ের মুখে তেহরান এখন যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে দেশের অভ্যন্তরে জনরোষের ভয়ে তারা বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করতে ভয় পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্পের এমন দাবিকে ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির যৌথ সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাকারি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্পকে বিদ্রূপ করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আপনি (ট্রাম্প) নিজের সাথেই আলোচনা শুরু করেছেন?” তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, ইরানের জনগণ বা নেতৃত্ব কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো চুক্তিতে যাবে না।

 

মার্কিন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ওয়াশিংটন সম্প্রতি পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের কাছে ১৫ দফার একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এই প্রস্তাবের মূল শর্তগুলোর মধ্যে ছিল ,ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা ,হিজবুল্লাহসহ অন্যান্য প্রক্সি গোষ্ঠীর সমর্থন প্রত্যাহার ও হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক রাখা।

 

তবে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, তেহরান এই মার্কিন প্রস্তাবটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। পরিবর্তে তারা ৫ দফার একটি নিজস্ব পাল্টা প্রস্তাব পাঠিয়েছে এবং সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, যেকোনো যুদ্ধবিরতি বা শান্তি প্রক্রিয়া কেবল ইরানের শর্ত মেনেই হতে হবে।

 

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই অনড় অবস্থান এবং ট্রাম্পের নাটকীয় দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।