২৪ দিনে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি প্রবাসী আয়, নতুন রেকর্ডের সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০২:৩৫

চলতি মার্চ মাসে দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে অভাবনীয় জোয়ার পরিলক্ষিত হচ্ছে। মাসের প্রথম ২৪ দিনেই বৈধ পথে বাংলাদেশে এসেছে ৩ বিলিয়ন বা ৩০৫ কোটি মার্কিন ডলার। রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী গতিধারা বজায় থাকলে একক মাস হিসেবে প্রাপ্তিতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে পরিবারের কেনাকাটা ও উৎসবের খরচ মেটাতে প্রবাসীরা রেকর্ড পরিমাণ অর্থ পাঠাচ্ছেন। গত বছরের মার্চ মাসে দেশে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। চলতি মাসের বাকি দিনগুলোতে এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগের সব রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে যথাক্রমে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ এবং ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা এখন পর্যন্ত তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে অর্থাৎ জুলাই থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত সংগৃহীত মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৫০ কোটি ৪০ লাখ ডলারে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই অংক ছিল ২ হাজার ১২৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার রেমিট্যান্স প্রবাহে ১০.৯০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

 

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে ডলারের মূল্যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আট অর্থনীতিবিদ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে আয়োজিত এক সাম্প্রতিক সভায় তারা জানিয়েছে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিকল্প বাজার খোঁজা জরুরি । বিনিয়োগ বৃদ্ধির স্বার্থে এখনই নীতি সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না; বরং সংকট না কাটা পর্যন্ত সতর্ক অবস্থান বজায় রাখা প্রয়োজন।

 

এছাড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও দেশীয় গ্রাহক পর্যায়ে এখনই সেই চাপ প্রয়োগ না করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা, যাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

 

প্রবাসী আয়ের এই উল্লম্ফন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট খাত সংশ্লিষ্টরা।