স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পদ্মার পাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ১১:৪৯

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় 'সৌহার্দ্য পরিবহন' নামের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৫ থেকে ৪০ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে পদ্মার পাড়ে ভিড় করেছেন স্বজনরা, তাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে ঘাট এলাকা।

 

দুর্ঘটনার পর এখন পর্যন্ত দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী জাহাজ 'হামজা' দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে শুরুতে উদ্ধার কাজ কিছুটা বিঘ্নিত হয়। তবে বর্তমানে পুরোদমে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসানসহ বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

নদীতে তলিয়ে যাওয়া প্রিয়জনদের অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাড়ে দাঁড়িয়ে আছেন স্বজনরা। রাজবাড়ী থেকে আসা রোকন জানান, তার বন্ধুর ছোট বোন ফাতেমা তুজ জোহরা ও ভগ্নিপতি কাজী সাইফ আহমেদ ওই বাসেই ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। বিকাল সাড়ে ৫টায় খবর পেয়ে ঘাটে আসলেও এখনো তাদের কোনো খোঁজ পাননি তারা।

 

শরিফুল ইসলাম নামের এক যাত্রী জানান, তার পরিবারের পাঁচ সদস্য ওই বাসে ছিলেন। স্ত্রী, মেয়ে ও ভাগ্নি সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও নিখোঁজ রয়েছে তার সাত বছরের ছেলে ও ১১ বছরের ভাগ্নে। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, "আমার আর কিছুই চাওয়ার নেই, শুধু আমার সন্তানের লাশটা যেন আমাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।"

 

একইভাবে নিজের দুই নাতি-নাতনির জন্য কান্নায় ভেঙে পড়েছেন নবীজ উদ্দিন নামের এক বৃদ্ধ। নিখোঁজদের ফিরে পাওয়ার ক্ষীণ আশা নিয়ে এখনো নদীর দিকে চেয়ে আছেন তারা।

 

উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, নদী থেকে বাসটি শনাক্ত করে উপরে তোলার চেষ্টা চলছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।