প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৬:২৪
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা প্রশমন এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকরে সক্রিয় হয়েছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। আলজাজিরার বরাত দিয়ে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে ইসলামাবাদ। একইসঙ্গে তুরস্কও দুই দেশের মধ্যে বার্তার আদান-প্রদান এবং কূটনৈতিক সেতুবন্ধন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আলজাজিরার প্রতিনিধি ওসামা বিন জাভেদ পাকিস্তানের ঊর্ধ্বতন সূত্রের বরাত দিয়ে নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন প্রশাসনের দেওয়া একটি বিশেষ নথি ইতোমধ্যে ইরানি প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাকিস্তান বর্তমানে এই প্রস্তাবের বিপরীতে তেহরানের আনুষ্ঠানিক উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।
কূটনৈতিক এই তৎপরতার অংশ হিসেবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে তুরস্কও এই সংকট নিরসনে সমানভাবে তৎপর। দেশটির ক্ষমতাসীন দল একে পার্টির পররাষ্ট্র বিষয়ক সহ-সভাপতি হারুন আরমাগান রয়টার্সকে জানান, আঙ্কারা বর্তমানে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে দূতিয়ালির কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, "আমাদের মূল লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাস করা এবং উভয় দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনার একটি ক্ষেত্র তৈরি করা।" যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় দেশের সাথেই তুরস্কের মজবুত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক থাকায় আঙ্কারা নিজেকে একটি কার্যকর মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তান ও তুরস্কের এই সমন্বিত প্রচেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এখন তেহরানের পক্ষ থেকে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া আসে, তার ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ।
উভয় দেশের সরকারই এই আলোচনা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছানোর ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।