ট্রাম্পের সাথে আলোচনার দাবি প্রত্যাখ্যান : 'বিশ্বাসঘাতকতার' অভিযোগ তেহরানের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৪:৫৭

তেহরান, ২৫ মার্চ ২০২৬: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানের সাথে চলমান ‘ফলপ্রসূ আলোচনার’দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। বুধবার (২৫ মার্চ) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই ওয়াশিংটনের সাথে যেকোনো ধরনের সংলাপের খবর নাকচ করে দেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সমঝোতা বা আলোচনার সুযোগ নেই।

 

সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরানের নীতিনির্ধারকদের সাথে তার প্রশাসনের ইতিবাচক আলোচনা চলছে এবং তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে অত্যন্ত আগ্রহী। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই দাবিকে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করার একটি ‘মনস্তাত্ত্বিক কৌশল’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। যদিও পাকিস্তানসহ কয়েকটি বন্ধু রাষ্ট্র আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল, তবে ইরান তাতে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া দেয়নি।

 

সাক্ষাৎকারে ইসমাইল বাঘায়েই মার্কিন কূটনীতির নেতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন: "যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত ভয়াবহ। গত ৯ মাসে পারমাণবিক ইস্যুতে আমরা যখনই আলোচনায় বসেছি, তখনই আমাদের ওপর দুবার বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে। একে কূটনীতির নামে চরম বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া আর কিছু বলা যায় না।"

 

একই সুরে কথা বলেছেন ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানের জ্বালানি ও সামরিক অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত রেখে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন বন্ধ, ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা ছাড়া কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো হবে না।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওমান, কাতার বা পাকিস্তানের মাধ্যমে পর্দার আড়ালে বার্তার আদান-প্রদান চললেও প্রকাশ্যে ইরান কোনো নমনীয়তা দেখাতে নারাজ। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযানে প্রাণহানি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে, এই মুহূর্তে যেকোনো চুক্তিতে আসাকে ইরান নিজেদের জন্য ‘আত্মসমর্পণ’ বলে মনে করছে।

 

সব মিলিয়ে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর পরিবর্তে তিক্ততা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।