প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৪:১৯
বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিকায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়ায় সুইজারল্যান্ডের কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দফতরে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলির সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনার প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সন্ত্রাসবাদ দমন, সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা, পুলিশ ও আর্থিক খাতের সংস্কার, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ এবং ডিজিটাল প্রতারণা মোকাবিলা।
সাক্ষাতের শুরুতে রাষ্ট্রদূত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। জবাবে মন্ত্রী সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়ন এবং প্রকৃত সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সভা-সমাবেশ করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে, তবে তা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে পালন করা বাঞ্ছনীয়। অতীতের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ইতিপূর্বে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনাগুলো ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক।
রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং চলমান সংস্কার কার্যক্রমে সুইজারল্যান্ডের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি একটি কার্যকর সংসদ ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক বিতর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডিজিটাল প্রতারণা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত ১৬-১৭ মার্চ ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত 'গ্লোবাল ফ্রড সামিট ২০২৬'-এর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, বর্তমানে বিশ্বের মোট প্রতারণার প্রায় ৪০ শতাংশই ডিজিটাল মাধ্যমে ঘটছে। এটি একটি বৈশ্বিক সংকট যা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয় প্রয়োজন। রাষ্ট্রদূতও এই উদ্বেগের সাথে একমত পোষণ করেন।
দেশের সন্ত্রাসবাদ পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী জানান, চরমপন্থা সীমিত আকারে থাকলেও তা বড় কোনো রূপ নেয়নি এবং এটিইউ ও সিটিটিসি ইউনিটগুলো অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করছে। এছাড়া অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় আর্থিক খাতের সংস্কারকে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে সুইজারল্যান্ডের জোরালো ভূমিকা কামনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
উক্ত বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের কাউন্সেলর আলবার্তো জিওভানেত্তি উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘ইউনাইটেড নেশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম’ (ইউএনওডিসি)-এর আঞ্চলিক পরিচালক ক্রিস্টিয়ান হোলজের সঙ্গেও একটি পৃথক বৈঠক সম্পন্ন করেন।
সুইজারল্যান্ডের সাথে এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বাংলাদেশের পুলিশি ব্যবস্থা ও আর্থিক খাতের কাঠামোগত পরিবর্তনে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।