প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৮:৩৫
ঢাকার ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। গতকাল সোমবার পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগর মহকুমা আদালত এনআইএর আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপরই কড়া নিরাপত্তায় তাদের দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
গত ২২ মার্চ বিধাননগর আদালত দুই আসামিকে ১২ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় দিল্লি এনআইএ-র একটি বিশেষ দল গতকাল আদালতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায়। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করলে সোমবার রাতেই তাদের দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এনআইএ-র বিশেষ আদালতে হাজির করে পুনরায় রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানা গেছে।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রকাশ্যে শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিতে ফয়সাল ও আলমগীর সওয়ার ছিলেন। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর চলতি বছরের ৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকা থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) তাদের গ্রেপ্তার করে। অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে পুলিশ তাদের ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন করেছিল। এই দুই আসামিকে সীমান্ত পার হতে এবং পালিয়ে থাকতে সহায়তা করার অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ফিলিপ সাংমা নামক এক ব্যক্তিকে। তবে তাকে এনআইএ হেফাজতে না নিয়ে আদালতের নির্দেশানুযায়ী বর্তমানে বিচার বিভাগীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সাল করিম মাসুদ শুরু থেকেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছেন। গত ২২ মার্চ আদালতে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনি দাবি করেন, তিনি এই অপরাধ করেননি এবং ষড়যন্ত্রের শিকার কি না—এমন প্রশ্ন তিনি সুকৌশলে এড়িয়ে যান।
তদন্তের স্বার্থে এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধের শিকড় অনুসন্ধানে এনআইএ এখন এই দুই আসামিকে বিশদ জিজ্ঞাসাবাদ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।