জুলাই শহীদদের সন্তান ও আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৮:২৮

জুলাই আন্দোলনে শহীদদের সন্তান এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ‘জুলাই শিক্ষার্থী যোদ্ধা’দের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা বিনিময় ও আলোচনা সভায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা প্রদান করেন।

 

মঙ্গলবার ছিল ঈদুল ফিতর পরবর্তী প্রথম কর্মদিবস। এদিন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মন্ত্রী। সভায় বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের পরিকল্পনা এবং আগামী ৫ বছরের শিক্ষা খাতের উন্নয়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

 

শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে শিক্ষা খাতের আধুনিকায়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’,মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা এবং ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস ও জুতা প্রদান, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ঋণ সুবিধা এবং হাফেজে কোরআনদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়টিও সভার আলোচনায় স্থান পায়।

 

সভায় বলা হয় ,আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় দুই লাখের বেশি শিক্ষার্থীর মাঝে বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস ও কেডস বিতরণ করা হবে। পরবর্তীতে দেশের সকল প্রাথমিক শিক্ষার্থীর মাঝে এই সুবিধা পর্যায়ক্রমে পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে প্রাথমিক, কারিগরি, মাদ্রাসা ও স্কুল-কলেজের সকল শিক্ষকের হাতে ট্যাব সরবরাহ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণের জট কমাতে প্রয়োজনে একাধিক শিফটে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি ৫০ বছরের বেশি বয়সী জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদেরও এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য অনুযায়ী দেশের মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এই ১৮০ দিনের কর্মসূচি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জনকল্যাণমূলক এই মহাপরিকল্পনা সফল করতে তিনি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

 

উন্নত ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষে সরকারের এই বহুমুখী উদ্যোগগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয় উক্ত সভায়।