প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৮:১৪
মালয়েশিয়াসহ বন্ধ থাকা বৈদেশিক শ্রমবাজারগুলো দ্রুত চালুর পাশাপাশি অভিবাসন খরচ সুনির্দিষ্ট করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন বাজারে জনশক্তি রপ্তানির জটিলতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক পরবর্তী ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ার বাজার পুনরায় সচল করতে দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। দ্রুতই এই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অগ্রগতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।
অভিবাসন ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কিছু দেশে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের কারণে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এটি নিয়ন্ত্রণে সরকার একটি নির্দিষ্ট ব্যয় কাঠামো প্রণয়নের কাজ করছে। এই কাঠামো কার্যকর হলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ করা এবং সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। মালয়েশিয়ার পাশাপাশি থাইল্যান্ডসহ অন্যান্য নতুন বাজারে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা দূর করার ওপরও জোর দিচ্ছে মন্ত্রণালয়।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মো. নুরুল হক বলেন, চলমান পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে দীর্ঘমেয়াদী কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই। বরং যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে ওইসব অঞ্চলের পুনর্গঠন কাজে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এই সম্ভাব্য সুযোগ কাজে লাগাতে কর্মীদের ভাষা দক্ষতা ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে স্বচ্ছতা ফেরার পাশাপাশি সাধারণ কর্মীদের বিদেশ যাত্রার খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।