প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৩:২৫
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী মসলিন শিল্পকে বিশ্বদরবারে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব এলাকায় বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড পরিচালিত ‘ঢাকাই মসলিন হাউজ’ও ‘জামদানি ভিলেজ’পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, মসলিনের আদি উৎস ও সঠিক ইতিহাস উদঘাটনে গবেষকরা ইংল্যান্ড পর্যন্ত সফর করেছেন। সেখান থেকে সংগৃহীত তথ্যের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে মসলিনের প্রকৃত বৈশিষ্ট্য নিশ্চিত করে এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবনের কাজ চলছে। এ ছাড়া উন্নত জাতের বীজ উদ্ভাবন, গবেষণার পরিধি বাড়ানো এবং মসলিনের বাজার সম্প্রসারণে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী জামদানি ভিলেজ প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে বলেন , প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ হিসেবে মাটি ভরাট, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ শেষ হয়েছে। এখানে একটি ছয়তলা ও একটি তিনতলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও প্রয়োজনে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে।
শরিফুল আলম আরও জানান, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই আগ্রহী উদ্যোক্তাদের কাছে মসলিন তৈরির প্রযুক্তি হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলো পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী এবং রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র শিল্পের বিকাশে সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ দেশের অর্থনীতি ও কারুশিল্পীদের জন্য নতুন আশার সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।