ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতায় পাকিস্তান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০২:৫৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে গড়ালে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে কূটনৈতিক সমঝোতা। পর্দার আড়ালে এই উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। এমনকি দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বৈঠকের জন্য ইসলামাবাদকে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে প্রস্তাব করেছে পাকিস্তান।

 

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি আলোচনার পথ সহজ না হওয়ায় একটি বিশ্বাসযোগ্য তৃতীয় পক্ষের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, পাকিস্তান সেই শূন্যস্থান পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষক ভ্যালি নাসরের মতে, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের পেছনে সৌদি আরবের পরোক্ষ সমর্থন থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি। রিয়াদের সবুজ সংকেত ছাড়া ইসলামাবাদ এত বড় কূটনৈতিক ঝুঁকি নেবে না বলেই তিনি মনে করেন।

 

দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যানের মতে, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের অবস্থান বেশ শক্তিশালী। এর পেছনে তিনি তিনটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেছেন ; গত এক বছরে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক , যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ইসলামাবাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ,যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের কূটনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের আইনি ভূমিকাকে।

 

শুধু পাকিস্তান নয়, তুরস্ক ও মিসরের মতো দেশগুলোও এই সংঘাত থামাতে সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে ইরান সীমান্ত সংলগ্ন হওয়ায় তুরস্ক ও পাকিস্তানের জন্য এই যুদ্ধ বড় ধরনের শরণার্থী সংকট এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের সাথে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ থাকায় মিসর এখানে বিশেষ বার্তা আদান-প্রদানের ভূমিকা পালন করছে।

 

পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক অবস্থানের পেছনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেশটির নেতৃত্বের ব্যক্তিগত সুসম্পর্ককে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছরের জুন ও সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির ট্রাম্পের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছিলেন। ট্রাম্প নিজেও আসিম মুনিরের ইরান বিষয়ক অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেছেন। এছাড়া ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরূপ ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়ে পাকিস্তান ওয়াশিংটনের আস্থা অর্জন করেছে।

 

যদিও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে এই মধ্যস্থতার খবর নিশ্চিত করেনি, তবে ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় পাকিস্তান বর্তমানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সেতুবন্ধন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।