ঈদের চতুর্থ দিনেও কাটেনি রেলের শিডিউল বিপর্যয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ১০:৪৬

ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি শেষ করে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। ফলে নীরব ঢাকা আবারও ব্যস্ত হয়ে উঠছে। তবে ট্রেনের ফিরতি যাত্রায় শিডিউল বিপর্যয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন গন্তব্য থেকে ঢাকায় আসা এবং ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীরা।

 

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রীদের এমন ভোগান্তির চিত্র দেখা গেছে।

 

সৈয়দপুর থেকে নীলসাগর এক্সপ্রেসে ঢাকা আসা যাত্রী জামিল ইসলাম জানান, তার ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের ৪ ঘণ্টা পরে ঢাকায় পৌঁছেছে। ৯টায় ছাড়ার কথা থাকলেও ট্রেনটি স্টেশন ছাড়ে সাড়ে ১০টায়। ঢাকায় পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় তিনি তার পরবর্তী গন্তব্য নরসিংদীর লোকাল ট্রেনও মিস করেছেন। তাকে এখন স্টেশনে পরবর্তী ট্রেনের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

 

সাফা নামের আরেক যাত্রী জানান, তার ট্রেনটি আসতে দেরি করেছে এবং অতিরিক্ত বগির অজুহাতে ৩০ শতাংশ বেশি ভাড়া নেওয়া হয়েছে। ট্রেনের ভিড় ও দেরি হওয়াটা তার জন্য বেশ বিরক্তিকর ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।

 

শুধুমাত্র ফেরার পথেই নয়, কমলাপুর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোতেও ছিল বিশৃঙ্খলা। সকাল থেকে 'বুড়িমারি এক্সপ্রেস' ছাড়া বাকি প্রায় সব ট্রেনই দেরি করে স্টেশন ছেড়েছে।

 

কমলাপুর স্টেশন সূত্রে জানা গেছে:

  • ধূমকেতু এক্সপ্রেস: ৭টা ৪০ মিনিটে (৫ মিনিট দেরি)।
  • পর্যটক এক্সপ্রেস: ৭টা ৪ মিনিটে (৪৫ মিনিট দেরি)।
  • পারাবত এক্সপ্রেস: ৭টা ২০ মিনিটে (২০ মিনিট দেরি)।

 

স্টেশনে অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থী সাইফুল জানান, নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল সাড়ে ৬টায় ছাড়ার কথা থাকলেও ৮টা পর্যন্ত ট্রেনের দেখা মেলেনি। একই ট্রেনের যাত্রী রতন শর্মা জানান, ট্রেনের সময় বারবার পরিবর্তন করা হচ্ছে। সাড়ে ৬টার ট্রেন ৮টা ২০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে তা আসবে কি না, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।

 

লম্বা ছুটি কাটিয়ে কাজে ফিরতে চাওয়া মানুষেরা রেলের এই অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, সময়মতো ট্রেন যাতায়াত নিশ্চিত করতে না পারলে এই ভোগান্তি আরও বাড়বে।