কুমিল্লায় রেলক্রসিংয়ে বাসে ট্রেনের ধাক্কা: শিশুসহ প্রাণ গেল ১২ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ১২:৫০

পবিত্র ঈদের রাতে কুমিল্লায় এক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১২ জন। শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে নগরীর পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিং এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রেনের এই সংঘর্ষ ঘটে। নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, দুইজন নারী এবং তিনজন শিশু রয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘ওয়ান আপ’ ট্রেনটি পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিং অতিক্রম করছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামমুখী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি বাস রেললাইনে উঠে পড়ে। ট্রেনের ধাক্কায় বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনে আটকে থাকা অবস্থায় প্রায় এক কিলোমিটার দূরে কচুয়া চৌমুহনী এলাকায় গিয়ে থামে।


দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তারা বাস ও ট্রেনের ভেতর থেকে হতাহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।


হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অজয় ভৌমিক জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ১২ জনের মরদেহ আনা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেলেও বাকি ১০ জনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। আহতদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।


দুর্ঘটনার পর ট্রেনের যাত্রী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, রেলক্রসিংয়ের সিগন্যাল ম্যানের চরম অবহেলার কারণেই বাসটি লাইনে উঠে পড়েছিল। এছাড়া অভিযোগ উঠেছে যে, দুর্ঘটনার পর জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ বারবার কল করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. ইদ্রিস প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে জানান, পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিংয়ে সিগন্যাল না থাকার কারণেই বাসটি লাইনে উঠে গিয়েছিল এবং এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।


কুমিল্লা ইপিজেড ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, রাত তিনটার দিকে খবর পাওয়ার পরপরই তারা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।