ট্রেনের জন্য প্লাটফর্মজুড়ে হাজারও মানুষের অপেক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ১২:০৮

ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। তবে এই যাত্রায় বিষাদের ছায়া ফেলেছে ট্রেন চলাচল বিভ্রাট। বগুড়ার সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার কবলে পড়ায় সারা দেশের ট্রেন শিডিউলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজধানীর ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে, যেখানে ট্রেনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন হাজার হাজার ঘরমুখো মানুষ।

 

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। প্রতিটি প্লাটফর্মে মানুষের ভিড়ে পা ফেলার জায়গা নেই। দীর্ঘ বিলম্বের কারণে হাজার হাজার যাত্রী স্টেশনেই আটকে আছেন। কেউ প্লাস্টিকের ব্যাগের ওপর বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন, কেউবা দীর্ঘ অপেক্ষার ক্লান্তি কাটাতে আড্ডায় মেতেছেন। তবে সবার চোখেমুখে ছিল অনিশ্চয়তা আর উৎকণ্ঠা।

 

মূলত নীলসাগর ও একতা এক্সপ্রেসের শিডিউল বিপর্যয়ের কারণেই স্টেশনে জট সৃষ্টি হয়েছে। সময় যত গড়াচ্ছে, ভিড় তত বাড়ছে। অনেকেই নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে স্টেশনে চলে এসেছেন যাতে কোনোভাবেই ট্রেন মিস না হয়। কিন্তু স্টেশনে এসে তারা জানতে পারছেন ট্রেন কয়েক ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়বে।

 

একতা এক্সপ্রেসের যাত্রী ফরিদুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সকাল ১০টা ১০ মিনিটে ট্রেন ছাড়ার কথা ছিল, তাই সাড়ে ৯টায় স্টেশনে এসেছি। এখন শুনছি ট্রেন ছাড়বে বিকেলে। হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে এত সময় অপেক্ষা করা খুবই কষ্টকর।"

 

স্টেশনের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নীলসাগর ও একতা এক্সপ্রেসের যাত্রীদের চাপ সবচেয়ে বেশি। তবে অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসসহ অন্যান্য ট্রেনের যাত্রীরাও ভিড়ের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন। জাহিদুল ইসলাম নামে এক যাত্রী জানান, ১১টার ট্রেনের জন্য এসে দেখেন তিল ধারণের জায়গা নেই।

 

এদিকে ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক যাত্রীকে ছাদে চড়তে দেখা গেছে। বিশেষ করে ৬ নম্বর প্লাটফর্মে থাকা অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসসহ বেশ কিছু ট্রেন যাত্রী ঠাসা ছাদে নিয়েই ঢাকা ত্যাগ করেছে।

 

বুধবার দুপুরে সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার কবলে পড়ার পর থেকেই মূলত ট্রেন চলাচলে এই বিঘ্ন ঘটে। যদিও রেল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে, তবে সকাল পর্যন্ত বড় স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।