প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৯:১৭
ইরানের অবশিষ্ট সামরিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো ধ্বংস করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী দেশগুলো যদি তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের সামরিক অভিযানে অংশ না নেয়, তবে ওই জলপথের নিরাপত্তার দায়ভার তাদের ওপরই ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি। বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরশীলতা নেই। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "আমরা যদি ইরানি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের অবশিষ্টাংশ পুরোপুরি নির্মূল করি এবং এই জলপথ ব্যবহারের দায়িত্ব ব্যবহারকারী দেশগুলোর হাতেই ন্যস্ত করি, তবে কেমন হবে?" তিনি মনে করেন, এমন কঠোর পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব ‘নিষ্ক্রিয়’মিত্র দেশ এখনো সহযোগিতা করছে না, তারা দ্রুতই মার্কিন অবস্থানে শরিক হতে বাধ্য হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই সরবরাহ করা হতো। বর্তমান অচলাবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। আজ বুধবার প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ১০৮ ডলার ছাড়িয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় ব্যারেল প্রতি প্রায় ৪০ ডলার বেশি।
ইরান সরকার জানিয়েছে, তারা প্রণালিটি বন্ধ করেনি। তবে মার্কিন ও ইসরায়েলি মিত্রদের কোনো জাহাজকে তারা যাতায়াত করতে দেবে না এবং চেষ্টারত জাহাজগুলোতে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৬টি ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে ভারতের মতো নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজকে ইরানের বিশেষ অনুমতি নিয়ে পার হতে দেখা গেছে।
এদিকে, ট্রাম্পের বারবার আহ্বান সত্ত্বেও ন্যাটো ও এশিয়ার মিত্রদের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালিসহ ইইউভুক্ত দেশগুলো কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এশীয় মিত্র জাপান ও অস্ট্রেলিয়া জাহাজ পাঠাতে মানা করে দিয়েছে, তবে দক্ষিণ কোরিয়া বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে। চীনকেও এই নিরাপত্তা বলয়ে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও বেইজিং তাতে কর্ণপাত করেনি।
মিত্রদের নিষ্ক্রিয়তার মধ্যেই ইরান উপকূলে সামরিক চাপ বাড়াচ্ছে পেন্টাগন। গত মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করতে শক্তিশালী ‘বাংকার-বাস্টার’ বোমা ব্যবহার শুরু করেছে।
জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা নিরসনে ট্রাম্পের এই নতুন হুমকি বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গভীর অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।