প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৮:৫২
ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত নিরসনে বেইজিংয়ের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তিনি জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে চীন কেবল মৌখিক বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে কার্যকর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসন দাবি করেছে যে, ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের ফলে ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা প্রায় তলানিতে ঠেকেছে।
সম্প্রতি বেইজিংয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূতের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। বৈঠকে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান এই যুদ্ধ শুরু হওয়াটাই অনুচিত ছিল এবং এটি দীর্ঘায়িত করার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বেইজিং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চীন তার দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক নীতি অনুযায়ী যুদ্ধবিরতির পক্ষে বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান আরও সংহত করছে।
ইরান পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজনে যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে তার প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে বর্তমানে মার্কিন সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্কিন অভিযানের ফলে ইরানের সামরিক শক্তি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ড্রোন হামলা পূর্বের তুলনায় প্রায় ৯৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে , ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রায় ৯০ শতাংশ কমে এসেছে এবং এখন ইরানের নৌ-সক্ষমতা বর্তমানে প্রায় অকার্যকর। দেখা যাচ্ছে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রমও অনেকটা সীমিত হয়ে পড়েছে।
একদিকে চীন যখন আলোচনার টেবিলে সমাধানের পথ খুঁজছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তির মাধ্যমে ইরানকে চাপে রাখার নীতিতে অটল রয়েছে। বিশ্বশক্তির এই বিপরীতমুখী অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।