প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৮:২০
পবিত্র ঈদুল ফিতরের যাতায়াতে দেশের বাস ও মিনিবাসগুলোতে ভয়াবহ ভাড়া নৈরাজ্যের অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির দাবি, সরকারি নজরদারির অভাব এবং পরিবহন মালিকদের প্রভাবের কারণে এবারের ঈদযাত্রায় যাত্রীদের পকেট থেকে অতিরিক্ত ১৪৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (১৮ মার্চ, ২০২৬) এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করে। ভাড়ার রেকর্ড ভাঙা নৈরাজ্যযাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, এবারের ঈদে ৮৭ শতাংশ গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, যা গত ২০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করতে চলেছে। সংগঠনটির মতে, সরকার যাত্রী স্বার্থ রক্ষার বদলে পরিবহন মালিকদের নির্ধারিত 'প্রেসক্রিপশন' অনুযায়ী বক্তব্য দিচ্ছে, যার ফলে মাঠ পর্যায়ে তদারকি ব্যবস্থা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
রুটিভিত্তিক ভাড়ার চিত্রপর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিভিন্ন রুটে ভাড়ার ব্যবধান দ্বিগুণ বা তারও বেশি দেখা গেছে অনেক ক্ষেত্রে ৫২ আসনের বাসকে ৪০ আসনের হিসেবে দেখিয়ে উচ্চমূল্যে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। কৌশলী প্রতারণা ও বাড়তি আয়ের হিসাবসংগঠনটি জানিয়েছে, নামী-দামী বাস কোম্পানিগুলো গন্তব্যের দূরত্ব বাড়িয়ে দেখিয়ে যাত্রীদের থেকে বাড়তি টাকা নিচ্ছে। যেমন—চট্টগ্রামের যাত্রীকে চকরিয়া বা বান্দরবানের টিকিট এবং বগুড়ার যাত্রীকে নওগাঁ বা রংপুরের টিকিট কাটতে বাধ্য করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী দূরপাল্লার রুটে ৪০ লাখ ট্রিপে ৮৭% যাত্রীর কাছ থেকে গড়ে ৩৫০ টাকা বাড়তি হিসেবে প্রায় ১২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং অন্যান্য রুটে ৫ কোটি ২২ লাখ ট্রিপে গড়ে ৫০ টাকা বাড়তি হিসেবে প্রায় ২৬ কোটি ১০ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। সর্বমোট বাস ও মিনিবাস খাতে মোট অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের পরিমাণ প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা।
সিএনজি ও ডিজেলচালিত বাসের ভাড়ার পার্থক্য থাকলেও ঈদযাত্রায় সব পরিবহনেই সমহারে এই বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।