প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ১২:২৮
বিশ্ব দরবারে নারীর সমঅধিকার ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অধিবেশনে তিনি এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে বিশেষ গুরুত্ব নারীর অবস্থা বিষয়ক কমিশনের ৭০তম অধিবেশনে (সিএসডব্লিউ৭০) দেওয়া বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বেইজিং ঘোষণা এবং ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশ পূর্ণ দায়বদ্ধ। বিশেষ করে নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাকে বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
বৈষম্যহীন আইনি সুরক্ষার আহ্বান ড. খলিলুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, সামাজিক বা অর্থনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি নারী ও কন্যাশিশুর জন্য আদালতের দরজা উন্মুক্ত থাকতে হবে। তারা যেন কোনো ভয়ভীতি বা বাধা ছাড়াই আইনি সুবিধা ও সুরক্ষা ভোগ করতে পারে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে।
শান্তিরক্ষায় নারীদের অবদান ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনগুলোতে বাংলাদেশি নারীদের সাহসী ভূমিকার কথা গর্বের সাথে স্মরণ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সংকট এবং ডিজিটাল বৈষম্যকে নারী উন্নয়নের পথে নতুন বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি। বিশেষ করে গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত নারীরা এসব সমস্যার কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রস্তাবনা এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় নারী নেতৃত্বের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রস্তাব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। একইসঙ্গে মানবপাচার রোধে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়া জাতিসংঘের এই ৭০তম অধিবেশন আগামী ১৯ মার্চ পর্যন্ত চলবে। এবারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।