উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের উচ্ছ্বাস ও আতংক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৫:৫০


পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে রাজধানীসহ বিভিন্ন প্রান্তের কর্মজীবী মানুষ। তবে প্রতিবছরের মতো এবারও উত্তরবঙ্গগামী বিশেষ করে বগুড়ামুখী যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় ভোগান্তি। মহাসড়কের বেহাল দশা, নির্মাণাধীন সড়ক এবং নিরাপত্তা নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ থাকলেও পুলিশ প্রশাসন দাবি করছে তারা নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে।

 

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে এখনো উন্নয়নমূলক কাজ চলায় ঈদযাত্রায় মন্থর গতি লক্ষ্য করা গেছে। জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় কিছু অংশের কাজ স্থবির হয়ে আছে, যা যানজটের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া রাস্তার ওপর যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সড়কপথের এই অনিশ্চয়তা এড়াতে অনেকে রেলপথে ঝুঁকলেও সেখানে টিকিটের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। টিকিট না পেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেককে ট্রাক বা বিকল্প যানবাহনে চড়ে গন্তব্যে রওনা হতে দেখা গেছে।

যাত্রীদের একটি বড় অংশ অভিযোগ করেছেন যে, মহাসড়কে প্রত্যাশিত মাত্রায় হাইওয়ে পুলিশের টহল দৃশ্যমান নয়। ফলে ‘মলম পার্টি’ বা ‘গামছা পার্টি’র মতো অপরাধী চক্রের কবলে পড়ার ভয় কাজ করছে তাদের মনে। তবে সাধারণ মানুষের এই উদ্বেগের বিপরীতে বগুড়া জেলা পুলিশ আশ্বস্ত করেছে।

 

বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ জানান, "বিগত চার দিন ধরে পুলিশ সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছেন। ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে এবং টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।"

সড়ক ও রেলপথে টিকিট সংগ্রহের লড়াইয়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়ার বোঝা যাত্রীদের আনন্দকে ম্লান করে দিচ্ছে। নির্দিষ্ট দামের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা খরচ করেও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। এই অব্যবস্থাপনা রুখতে এবং নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি জোরালো হচ্ছে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে।

 

ঈদের এই আনন্দ যেন বিষাদে রূপ না নেয়, সেজন্য প্রশাসন ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগই এখন ঘরমুখো মানুষের একমাত্র প্রত্যাশা।