প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৪:৪০
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ট্রেনযাত্রার পঞ্চম দিনে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ছিল উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ। অন্যান্য বছরের তুলনায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় কম থাকায় এবং ট্রেনগুলো সঠিক সময়ে ছেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের কোনো ভোগান্তি ছাড়াই গন্তব্যে ফিরছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত স্টেশন এলাকায় যাত্রীদের চাপ ছিল অনেকটাই সহনীয়।
আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অধিকাংশ ট্রেনই নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কমলাপুর প্ল্যাটফর্ম ত্যাগ করেছে। ঈদযাত্রায় বাড়তি যাত্রীর চাপ সামাল দিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রায় প্রতিটি ট্রেনেই অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করেছে।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম জানান, গত ৭ মার্চ যারা অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন, তারাই আজ ঢাকা ছাড়ছেন। তিনি বলেন, "আজ সারাদিনে মোট ৬০টি ট্রেন ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪টি আন্তঃনগর এবং বাকিগুলো লোকাল ও মেইল ট্রেন। এছাড়া ঢাকা ও জয়দেবপুর থেকে একটি করে বিশেষ (স্পেশাল) ট্রেনও যুক্ত করা হয়েছে।"
বনলতা এক্সপ্রেসে রাজশাহীগামী যাত্রী ইমরান হোসেন জানান, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভিড় কম থাকায় বেশ স্বস্তিতেই তিনি বাড়ির পথে রওনা হতে পেরেছেন। একই ট্রেনের যাত্রী মারুফা বিনতে শাহবাজও গত বছরের তুলনায় এবারের যাত্রাকে অনেক বেশি আরামদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবাগামী চট্টলা এক্সপ্রেসের যাত্রী শিল্পী আক্তার দুই মেয়েকে নিয়ে স্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তিনি বলেন, সাধারণত ২৭ বা ২৮ রমজানে যে পরিমাণ ভিড় কমলাপুরে থাকে, এবার তার ছিটেফোঁটাও নেই। ভিড় কম হওয়ায় নারীদের জন্য এবারের ঈদযাত্রা আগের চেয়ে সহজ হয়েছে।
সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত স্টেশনে ঘরমুখী মানুষের সমাগম কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে চিত্র কিছুটা পাল্টাতে শুরু করেছে। দুপুরের পর থেকে অনেক যাত্রী স্টেশনে আসতে শুরু করেছেন, যার ফলে স্টেশনে মানুষের উপস্থিতি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সার্বিকভাবে রেলওয়ের সময়ানুবর্তিতা ও সুব্যবস্থাপনায় এখন পর্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।
সব মিলিয়ে কোনো বড় ধরনের বিলম্ব ছাড়াই এবারের ঈদযাত্রার পঞ্চম দিনটি রেলযাত্রীদের জন্য ছিল আরামদায়ক ও নিরাপদ।