ব্যারেল প্রতি জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ১০৫ ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৪:৫৯

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারগুলোতে।

 

তিন সপ্তাহ আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকেই জ্বালানি পণ্যের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। গত ২১ দিনে পণ্যটির দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশের বেশি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বা ডব্লিউটিআই-এর দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৯ ডলার ৬৮ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

স্বাধীন গবেষণা সংস্থা রাইস্টাড এনার্জি জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বিঘ্ন ঘটায় প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে শিপিং ব্যবস্থা প্রায় অচল করে দেওয়ায় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো তাদের উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।

 

জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে, যার প্রতিফলন দেখা গেছে শেয়ারবাজারের সূচকগুলোতে।

 

জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক দশমিক ৪ শতাংশ এবং চীনের সাংহাই কম্পোজিট দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। ভারতের সেনসেক্সেও দশমিক ১ শতাংশ পতন লক্ষ্য করা গেছে। তবে এর বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি (.৬%), হংকংয়ের হ্যাংসেং (১.১%) এবং তাইওয়ানের তাইএক্স (.১%) সূচক কিছুটা ইতিবাচক অবস্থানে ছিল।

 

গত শুক্রবার মার্কিন শেয়ারবাজারগুলো বড় ধরনের দরপতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ করেছে। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ৩ দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সেশনে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং ডাও জোন্স ফিউচারে যথাক্রমে দশমিক ৫ ও দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম ১০০ ডলারের আশেপাশে অবস্থান করায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী মন্দার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের ওপর মূল্যস্ফীতির বোঝা আরও ভারী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংঘাতের স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও পুঁজিবাজারের এই অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।