ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতার তালিকায় স্বচ্ছতা ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৭:১৬

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা প্রদান কর্মসূচীকে স্বাগত জানালেও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালার দাবি জানিয়েছে ‘শানে সাহাবা জাতীয় খতীব ফাউন্ডেশন’। রোববার (১৫ মার্চ, ২০২৬) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক পর্যালোচনা মূলক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এই দাবি উত্থাপন করে।

 

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ মুফতি শামীম মজুমদার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও ধর্মীয় সেবকদের জন্য কল্যাণকর। তবে বর্তমানে পাইলট প্রকল্প হিসেবে চলা এই কার্যক্রমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অভাবী ইমাম-মুয়াজ্জিনদের চেয়ে শহরের সচ্ছল ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সঠিক নীতিমালার অভাবে প্রকৃত হকদাররা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারণে তালিকায় অনিয়ম দেখা দিচ্ছে।

 

সংগঠনটি উদ্বেগের সাথে জানায় যে, সরকারি অনুদান পাওয়ার পর অনেক মসজিদ কমিটি ইমাম-মুয়াজ্জিনদের পূর্বনির্ধারিত নিয়মিত বেতন কমিয়ে দিচ্ছে। এতে করে সরকারের এই মহৎ উদ্যোগের প্রকৃত সুফল সাধারণ ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের কাছে পৌঁছাবে কি না, তা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে। এছাড়া, এই বিশাল কর্মযজ্ঞে মাঠ পর্যায়ের কোনো সক্রিয় ধর্মীয় প্ল্যাটফর্মের পরামর্শ না নেওয়াকেও একটি বড় সীমাবদ্ধতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

 

ইমাম, খতীব ও মুয়াজ্জিনদের অধিকার সুরক্ষায় সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে ৫টি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করা হয়:

১. যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের পাশাপাশি খতীবদেরকেও ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
২. প্রথম ধাপে গ্রামের দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের ধর্মীয় সেবকদের অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে।
৩. রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সক্রিয় ইমাম-খতীব প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ে একটি কার্যকর তদারকি কমিটি গঠন করতে হবে।
৪. মিম্বরে বসে নিঃসংকোচে কুরআন-সুন্নাহর কথা বলার পরিবেশ নিশ্চিতসহ দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
৫. ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের হুটহাট চাকরিচ্যুত করা বন্ধে 'মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫' দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে এবং এক্ষেত্রে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে শানে সাহাবা জাতীয় খতীব ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ জানান, সরকারের এই উদ্যোগকে সফল করতে তারা সব ধরনের কারিগরি ও মাঠ পর্যায়ের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত আছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি পাঠিয়েছেন সংগঠনের যুগ্ম-মহাসচিব (মিডিয়া) মুফতি ইসহাক মাহমুদ রফিকী।