১১ সিটিতেই এখন প্রশাসক: নতুন ৫ সিটিতে দায়িত্ব পেলেন বিএনপির নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০২:৩০

দেশের আরও পাঁচটি সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বরিশাল, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, রংপুর ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএনপির পাঁচ নেতাকে। শনিবার (১৪ মার্চ) স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পর আজ রোববার (১৫ মার্চ) তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এর মাধ্যমে দেশের মোট ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।

 

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হয়েছেন বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। রাজশাহী সিটির দায়িত্ব পেয়েছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান। ময়মনসিংহ সিটিতে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রুকুনোজ্জামান রোকন। রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মাহফুজ উন নবী চৌধুরী রংপুর সিটির এবং কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা কুমিল্লা সিটির প্রশাসক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।

 

দায়িত্ব গ্রহণের আগে গতকাল শনিবার দুপুরে নতুন এই পাঁচ প্রশাসক জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই প্রশাসকরা মেয়রের ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ, খুলনা, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনেও বিএনপি নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

 

২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রকে অপসারণ করা হয়েছিল। বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে আদালতের আদেশে ডা. শাহাদাত হোসেন মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন, যা আইনি বিশেষত্বের কারণে বাকি সিটিগুলোর চেয়ে ভিন্ন।

 

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই প্রশাসকগণ অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবেন। আগামী সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর নির্বাচিত নতুন মেয়রদের কাছে তারা দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে আইনের ২০০৯ সালের বিলুপ্ত ধারা (মেয়াদ শেষেও পরবর্তী মেয়র আসা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন) ব্যবহার করে শাহাদাত হোসেনকে স্বপদে রাখা হয়েছে, যা সাধারণত ২০১১ সালের সংশোধনী অনুযায়ী স্থগিত থাকার কথা।

 

স্থানীয় সরকার প্রশাসনের এই পরিবর্তনের ফলে এখন দেশের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ নগর সংস্থাই নির্বাচিত পরিষদের পরিবর্তে সরকার মনোনীত প্রশাসকদের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।