সংরক্ষণের উদ্যোগ নেই ঐতিহ্যবাহী হরিপুর জমিদার বাড়ির

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৮:০১

চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহাসিক হরিপুর জমিদার (চৌধুরী) বাড়িটি সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিলুপ্তির পথে। দীর্ঘদিনের পুরনো এই শৈল্পিক স্থাপনাগুলো এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের দাবি, দ্রুত সরকারি উদ্যোগ নিলে এটি একটি অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

 

সবুজে ঘেরা মনোরম পরিবেশে নির্মিত এই জমিদার বাড়ির প্রতিটি ভবনে রয়েছে নিপুণ কারুকার্য। ঐতিহ্যের এই বিশাল আঙিনায় রয়েছে সুন্দর নকশা করা প্রাচীন ভবন, বিশাল পুকুর ও পুকুর ঘাট। এছাড়া বাড়ির পাশেই রয়েছে মসজিদ, পারিবারিক কবরস্থান, এতিমখানা, ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা, প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি পুরনো বাজার। শান্ত ও নিরিবিলি এই পরিবেশটি ভ্রমণপিপাসুদের নজর কাড়ছে।

 

বাড়ির বর্তমান বাসিন্দা ও চতুর্থ প্রজন্মের বংশধর গোফরান চৌধুরী জানান, তাদের পূর্বপুরুষরা প্রায় শত বছর আগে এখানে বসবাস শুরু করেন। কামিজ রাজা, মৌলভী মতিরাজা, উমেদ রাজা ও মোহাম্মদ রাজাসহ মোট সাতজন জমিদার এই এলাকা পরিচালনা করতেন।

 

 তৎকালীন সময়ে রূপসা জমিদার বাড়ির পাশাপাশি হরিপুর চৌধুরী বাড়ির জমিদাররাও খাজনা আদায়ের দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে এই বংশের প্রায় সাতটি পরিবার এখনো এই বাড়িতে অবস্থান করছে।

 

হরিপুর নেছারিয়া ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নূর মোহাম্মদ খান ও শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, এই জমিদার বংশের উত্তরসূরিরা অত্যন্ত পরোপকারী ও ধর্মপ্রাণ ছিলেন। তারা এলাকায় মাদ্রাসা, এতিমখানা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অসংখ্য সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এখনো এই বংশের সদস্যরা বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক কাজে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

 

বাড়ির আরেক বাসিন্দা মো. ইমরুল হুদা চৌধুরী জানান, এই বাড়ির সৌন্দর্য ও প্রাচীন কাঠামো সিনেমার শুটিংয়ের জন্য বেশ জনপ্রিয়। জনপ্রিয় নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘পাপ পুণ্য’ সিনেমার শুটিং এই জমিদার বাড়িতেই হয়েছে। অনেকেই এখানে ঘুরতে আসেন, কিন্তু সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনগুলো জীর্ণ হয়ে পড়ছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে জমিদারদের এই স্মৃতিগুলো চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

চাঁদপুর শহরের পালবাজার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশাযোগে জনপ্রতি ৫০ টাকা ভাড়ায় চান্দ্রা চৌরাস্তায় পৌঁছানো যায়। সেখান থেকে ২০-৩০ টাকা অটোরিকশা ভাড়ায় সরাসরি হরিপুর জমিদার বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

 

এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস.এম.এন জামিউল হিকমা জানান, হরিপুর চৌধুরী বাড়ির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও সৌন্দর্য সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। ঐতিহ্যবাহী এই বাড়িটি সংরক্ষণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।