প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৩:৫২
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে দেশে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গণপরিবহনের ক্ষেত্রে তেলের সরবরাহ সীমা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ রাত থেকেই বাসগুলো প্রয়োজনীয় পরিমাণ তেল সংগ্রহ করতে পারবে। এদিকে, আসন্ন ঈদে যানজট নিরসনে পোশাক কারখানাগুলো একযোগে ছুটি না দিয়ে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার জন্য বিজিএমইএ-সহ সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
ইরান, ইসরায়েল ও আমেরিকার মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশে জ্বালানি আমদানিতে জটিলতা দেখা দিলে গত ৬ মার্চ থেকে তেলের রেশনিং শুরু করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে জনভোগান্তি কমাতে গণপরিবহনের ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ রাত থেকে বাসগুলো চাহিদামতো তেল পাবে।
তবে ব্যক্তিগত যানবাহনের ক্ষেত্রে পূর্বের সীমাবদ্ধতা এখনও বহাল রয়েছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী মোটরসাইকেল দৈনিক সর্বোচ্চ ২ লিটার (পেট্রোল/অকটেন),ব্যক্তিগত গাড়ি সর্বোচ্চ ১০ লিটার। এসইউভি ও মাইক্রোবাস ২০ থেকে ২৫ লিটার এবং অন্যান্য ভারী যানবাহনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সীমা পিকআপ ও লোকাল বাস ৭০-৮০ লিটার ডিজেল এবং দূরপাল্লার বাস ও ট্রাক ২০০-২২০ লিটার।
ঈদের প্রাক্কালে সড়কে অতিরিক্ত চাপ কমাতে ডিএমপির পক্ষ থেকে গার্মেন্টস ছুটি নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে যানজট এড়াতে এবং শ্রমিকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে কারখানাগুলো ছুটি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে করে একযোগে বিপুল সংখ্যক মানুষ রাস্তায় নামলে যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়, তা এড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে পুলিশ প্রশাসন।
জ্বালানি তেলের এই নতুন সরবরাহ ব্যবস্থা গণপরিবহন চলাচলে স্বস্তি ফেরাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকদের পরবর্তী নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।