ঈদে তেলের দাম বাড়ছে না, বাড়তি ভাড়া নিলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৫:২৫

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রী সাধারণের ভোগান্তি কমাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। পরিবহন খাতে বাড়তি ভাড়া আদায় বা কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

 

শুক্রবার সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনকালে মন্ত্রী জানান, আগামী ১৫ মার্চ থেকে সারা দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, তেলের দাম বাড়ছে না। ফলে জ্বালানির অজুহাত দেখিয়ে পরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ নেই।

 

পরিবহন মালিকদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মন্ত্রী বলেন, "জ্বালানি মন্ত্রীর সাথে আমার কথা হয়েছে, পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ থাকবে এবং দাম বাড়বে না। তাই সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক টাকাও বেশি আদায় করা যাবে না। কেউ যদি বেশি ভাড়া দাবি করে, তবে আমাকে জানান; ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব আমার।"

 

আজ থেকে শুরু হওয়া ট্রেনযাত্রা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে শেখ রবিউল আলম জানান, সকাল থেকে ২১টি ট্রেন নির্ধারিত সময়েই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। বিগত কয়েকদিনের শিডিউল বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। একটি দুর্ঘটনার কারণে দুটি ট্রেন বিলম্বিত হলেও বর্তমানে তা স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে এসেছে এবং আগামী দুদিনের মধ্যে শিডিউল পুরোপুরি ঠিক হয়ে যাবে।

 

অনলাইনে টিকিট বিক্রির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ টিকিটের চেষ্টা করলেও সক্ষমতা অনুযায়ী ৩৩ হাজার টিকিট দেওয়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে।

 

মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, মাত্র দুই-তিন দিনের ব্যবধানে ঢাকা থেকে প্রায় সোয়া কোটি মানুষ গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। বিশ্বের অন্য কোনো দেশে এত অল্প সময়ে এত বড় জনস্রোতের নজির নেই। এই চাপ সামলাতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক কোচ ও ইঞ্জিন যুক্ত করা হয়েছে।

 

যাত্রীদের নিরাপত্তায় রেলওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ, আনসার ও হাইওয়ে পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এছাড়া শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতি ৫০০ মিটার পরপর বিশেষ জ্যাকেট পরিহিত ভলান্টিয়ার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

 

ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ ঠেকাতে সর্বোচ্চ কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। মন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়ে বলেন, "জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেউ ট্রেনের ছাদে চড়বেন না। আমরা ছাদে ওঠার সব পথ বন্ধ করে দিচ্ছি।"

 

পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।