মার্কিন ঘাঁটি সরানোর আলটিমেটাম মোজতবা খামেনির,পাশে থাকার ঘোষণা রাশিয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৮:০২

ইরানের নবনির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তার প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাষণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মুখে দেশটির ক্ষমতা গ্রহণের পর দেওয়া এই ভাষণে তিনি আঞ্চলিক উত্তেজনার মাঝে তেহরানের অনমনীয় অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন। অন্যদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটম।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অতর্কিত হামলা শুরু হয়। ওই দিনের অভিযানে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ৮ মার্চ তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ক্ষমতা গ্রহণের পর নিজের প্রথম রেকর্ডকৃত ভাষণে মোজতবা খামেনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ না করলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

তিনি উল্লেখ করেন, ইরান প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী হলেও, সেসব দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে তেহরান দ্বিধা করবে না।

 

এদিকে চলমান সংঘাতের মধ্যেও ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রাশিয়ার রোসাটম। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অ্যালেক্সি লিখাচেভ জানিয়েছেন, তারা বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ছেড়ে যাচ্ছেন না।
বুশেহর প্রকল্পে বর্তমানে ৪৫০ জন রুশ কর্মী কর্মরত আছেন, যার মধ্যে এই সপ্তাহে ১৫০ জন রাশিয়ায় ফিরে গেছেন।

 

দ্বিতীয় ও তৃতীয় ইউনিটের নির্মাণ কাজকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে রোসাটম। এর আগে ১-গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটটির নির্মাণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে তারা। দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় ইরানে মোট আটটি পারমাণবিক ইউনিট নির্মাণের কথা রয়েছে, যার মধ্যে চারটি হবে বুশেহর শহরে।

 

উল্লেখ্য, হামলার শুরুতে নিরাপত্তার খাতিরে কিছু কর্মী সরিয়ে নেওয়া হলেও এবং সাময়িকভাবে নির্মাণ কাজ স্থগিত থাকলেও, রাশিয়া এখন এই প্রকল্পকে পুনরায় সচল করার ওপর জোর দিচ্ছে। আল-জাজিরার বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পরপর ঘটে যাওয়া এসব ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন এবং জটিল সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।