সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ১০:৩৭

দীর্ঘ ১৭ মাস বিরতির পর আজ বেলা ১১টায় শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই অধিবেশনটি নানা কারণে ঐতিহাসিক ও চ্যালেঞ্জিং হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০০৬ সালের পর এই প্রথম সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে বসেছে বিএনপি।

 

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের অধিবেশন শুরু হচ্ছে প্রথাগত নিয়মের বাইরে কিছুটা ব্যতিক্রমীভাবে। বর্তমানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদ শূন্য থাকায় অধিবেশনের শুরুতে একজন প্রবীণ সংসদ সদস্য সভাপতিত্ব করবেন। তার মাধ্যমেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। পরবর্তীতে নবনির্বাচিতদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি।

 

ত্রয়োদশ সংসদে বিএনপি ২০৯টি আসন নিয়ে সরকারি দল হিসেবে অবস্থান করছে। অন্যদিকে, ৬৬টি আসন নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে। এছাড়া বিরোধী জোটে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (৬টি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (২টি) ও খেলাফত মজলিস (১টি)। সব মিলিয়ে ৭৭ জন সংসদ সদস্য নিয়ে বিরোধী পক্ষ সংসদে তাদের কার্যক্রম শুরু করছে।

 

জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী, বিরোধী দলের মধ্য থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের বিধান রয়েছে। সরকারি দল বিএনপির পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামীকে এই পদের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হলেও তারা এখনো চূড়ান্ত সম্মতি জানায়নি। জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, তারা জুলাই সংস্কারের পূর্ণ বাস্তবায়ন চান এবং সেই আলোকেই সিদ্ধান্ত নেবেন।

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কাল ৫৩৯ দিনে জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ আজকের অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে। এর মধ্যে ‘গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ’ এবং ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ উল্লেখযোগ্য। এই অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না পেলে এই অধ্যাদেশগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

 

অধিবেশনের শুরুতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে বিশেষ শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেবেন। তবে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। দলটির দাবি, বর্তমান রাষ্ট্রপতি পূর্ববর্তী শাসনব্যবস্থার অংশ হওয়ায় তার ভাষণের অধিকার নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছে।

 

২০২৪ সালের আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত সংসদ ভবনকে দ্রুততম সময়ে মেরামত করে অধিবেশনের উপযোগী করা হয়েছে। সংসদ এলাকা ও এর আশেপাশে ব্যাপক নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তুলেছে ডিএমপি। আজকের অধিবেশন শেষে আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত সংসদ মূলতবি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই অধিবেশনকে জাতীয় জীবনের এক সন্ধিক্ষণ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরেছে এবং জনস্বার্থ বিবেচনায় সংসদ সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।