স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার বাছাইয়ে প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব দিল সরকারি দল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৪:৩৪

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অভিভাবক অর্থাৎ স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের ওপর অর্পণ করেছে সরকারি সংসদীয় দল। বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

আজ জাতীয় সংসদের সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সংসদের আগামী দিনের কার্যপরিধি এবং স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

 

চিফ হুইপ জানান, "আমরা স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের সর্বময় ক্ষমতা সংসদ নেতার হাতে দিয়েছি। আগামীকালই আমরা জানতে পারব তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এ ছাড়া সংসদ উপনেতার বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রী নিজেই নির্ধারণ করবেন।"

 

আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের আচরণ ও কার্যক্রম নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। যেহেতু বর্তমানে স্পিকারের পদটি শূন্য, তাই শুরুতে একজন জ্যেষ্ঠ নেতার সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হবে। পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

 

ডেপুটি স্পিকার পদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ জানান, জামায়াতকে এই পদের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত উদারতা দেখিয়ে এই প্রস্তাব দিলেও এখন পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।

 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ আগামীকাল সংসদে উত্থাপন করবেন আইনমন্ত্রী। এগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সব দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি ‘বিশেষ কমিটি’ গঠন করা হবে। এই কমিটিই নির্ধারণ করবে কোন অধ্যাদেশগুলো বহাল থাকবে আর কোনগুলো বাতিল হবে।

 

অধিবেশনের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও যোদ্ধাদের নিয়ে শোকপ্রস্তাব ও আলোচনা করা হবে। এ ছাড়াও দেশি-বিদেশি বরেণ্য ব্যক্তিদের স্মরণে শোক প্রকাশ করা হবে।

 

লিখিত বক্তব্যে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, "এই সংসদ হবে দেশের মানুষের অধিকার ও স্বপ্নের প্রতিফলন। আমাদের লক্ষ্য হলো একটি কার্যকর ও প্রাণবন্ত সংসদ পরিচালনা করা যেখানে যুক্তিপূর্ণ তর্ক ও সুস্থ বিতর্কের পরিবেশ থাকবে।"

 

তিনি আরও যোগ করেন, জনগণের ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্র সুসংহত করতে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতিফলন এই সংসদ। দারিদ্র্য দূরীকরণ ও দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে একটি কার্যকর সংসদের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে দেশবাসীর কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।