প্রতিবেদন প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৭:৩৭
চট্রগ্রাম ব্যুরো অফিসঃ
পাইলট প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামেও বিএনপির প্রতিশ্রুত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে ৫ নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পে ‘পিছিয়ে পড়া পরিবার ও নারী প্রধানদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে’।
মঙ্গলবার সকালে তার নির্বাচনি এলাকা বন্দর-পতেঙ্গা আসনের বিমানবন্দর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন হবে। এ জন্য কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে পরিবারের নারীপ্রধানদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে। সাধারণত দেশের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে বছরের পর বছর সময় লাগে। কিন্তু সঠিক নেতৃত্ব ও সদিচ্ছা থাকলে অল্প সময়েও তা সম্ভব। ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প তার বড় প্রমাণ। যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ভালো থাকে এবং জনগণের প্রতি দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সদিচ্ছা থাকে, তাহলে এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন সকালে এই কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, নগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান প্রমুখ।
আমির খসরু বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সেখানে পরিবারের নারীপ্রধানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিবারের নারী প্রধানকে ক্ষমতায়ন করা না গেলে তার সক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক সম্মান বৃদ্ধি না হলে আগামীর বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এই চিন্তা থেকেই ফ্যামিলি কার্ডে ধারণা এসেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন বলেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু ভাতা প্রদান নয়, বরং নারীদের দেশের অর্থনীতির সঙ্গে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করে তাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং আত্মমর্যাদা ও সামাজিক সম্মান বৃদ্ধি করাই সরকারের লক্ষ্য।
প্রসঙ্গত, প্রথম পর্যায়ে দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডের ৫ হাজার ৫৭৫টি পরিবারের প্রধান নারীকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হচ্ছে। এর আওতায় প্রতিটি পরিবারকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে।