ভোটযুদ্ধ এবার স্থানীয় সরকারে , আসতে যাচ্ছে বড় পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০৪:০২

 

দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা বর্তমানে এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে নির্বাচনব্যবস্থা ও স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের সুপারিশে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান বাতিলের অধ্যাদেশ জারি হয়েছে, অন্যদিকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে প্রশাসকদের মাধ্যমে চলছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। পুরো প্রক্রিয়াটি এখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

 

 অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আইনে বড় ধরনের সংশোধনী আনা হয়েছে। এর ফলে মেয়র বা চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়নের দীর্ঘদিনের প্রথা বাতিলের সুপারিশ কার্যকর করতে অধ্যাদেশ জারি করা হয়। তবে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, সংসদের প্রথম বৈঠকেই এই অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করতে হবে। যদি নির্দিষ্ট সময়ে সংসদ এটি অনুমোদন না করে, তবে সংশোধিত আইনের কার্যকারিতা বিলুপ্ত হবে এবং আগের নির্বাচনী ব্যবস্থা ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হবে। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানান, কমিশন মূলত সংসদীয় সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে; সংসদ যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেই আলোকেই পরবর্তী নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হবে।

 

নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগ পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদ বাদে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের অধিকাংশতেই প্রশাসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে শফিকুল ইসলাম খান এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আবদুস সালামকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের চিত্র ভিন্ন। আদালতের রায়ে গত ৫ নভেম্বর মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালত তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। শাহাদাতের দাবি অনুযায়ী, ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর মেয়াদ বহাল থাকবে, যদিও আইনি হিসেবে করপোরেশনের সাধারণ মেয়াদ গত ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে।

 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে বর্তমানে অনেক জনপ্রতিনিধি দায়িত্বে নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রাথমিক ধাপ হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হতে পারে। তবে এর আগে মাঠ পর্যায়ের রাজনৈতিক পরিবেশ এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

 

স্থানীয় সরকার কাঠামোর এই পুনর্গঠন এবং আইনি পরিবর্তনের চূড়ান্ত রূপরেখা আগামী সংসদ অধিবেশনেই নির্ধারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।