বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিতিতে ঠাকুরগাঁও এ ফ্যামিলী কার্ড বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০২:৫৩

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নে অসহায় ও দরিদ্র নারীদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে রহিমানপুর সম্মিলিত ঈদগাঁ আলীম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বিশেষ পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।

 

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম এবং জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা।

 

মির্জা ফখরুল বলেন, বাড়ির প্রধান নারীরাই এই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তিনি এই কার্ড কী কাজে ব্যবহার করবেন সেটা পরের ব্যাপার, কিন্তু তার হাতে একটি কার্ড থাকবে। এটা হচ্ছে সোজা হিসাব—নারীদের ক্ষমতায়ন করা, তার হাতে একটি অস্ত্র তুলে দেওয়া, যাতে তিনি বলতে পারেন আমার শক্তি আছে, আমার ফ্যামিলি কার্ড আছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারের এই বিশেষ পাইলট প্রকল্পটি বর্তমানে দেশের ১৪টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রহিমানপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।

 

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খায়রুল ইসলাম জানান, সুবিধাভোগী নির্বাচনে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। একটি বিশেষ কমিটির মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে প্রাথমিক জরিপে ১ হাজার ৩৫ জন নারীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ভোটার আইডি কার্ড সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে ১ হাজার ১০ জনের তথ্য সার্ভারে আপলোড করা হয়। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত অ্যাপের মাধ্যমে ‘অটোমেটিক স্কোরিং’ পদ্ধতিতে ৫৯০ জন যোগ্য নারীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা জানান, প্রতিটি ধাপে তথ্যের যথার্থতা যাচাই করা হয়েছে যাতে প্রকৃত অভাবী মানুষ এই সুবিধার আওতায় আসে।

 

ফ্যামিলি কার্ড হাতে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকার হতদরিদ্র নারীরা। ৫০ বছর বয়সি মারজিনা বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, স্বামীর নিয়মিত কাজ না থাকায় সংসার চালাতে তাকে হিমশিম খেতে হতো। এই কার্ডের মাধ্যমে চাল-ডাল কেনার দুশ্চিন্তা কিছুটা হলেও লাঘব হবে। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

 

একই অনুভূতি প্রকাশ করেন ৩২ বছর বয়সি রাজিয়া সুলতানা। তিনি জানান, বর্গাচাষী পরিবারের সদস্য হিসেবে তিন সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালানো তাদের জন্য কঠিন ছিল। এই ভাতার অর্থ তার সন্তানদের শিক্ষা ও পারিবারিক ব্যয় মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

টেকসই উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে।