প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬, সময়ঃ ০১:২৬
বাংলাদেশে বর্তমান পদ্ধতিতে চান্দ্র মাস গণনার ফলে ধর্মীয় ইবাদত পালনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসন এবং বৈজ্ঞানিক ও শরিয়াহ ভিত্তিক সমাধানের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে 'চান্দ্র মাসের সঠিক তারিখ বাস্তবায়ন কমিটি'।
সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এই সভায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাথে ঝুলে থাকা দ্বিপাক্ষিক আলোচনা দ্রুত সম্পন্ন করার জোর দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বর্তমানে চন্দ্র মাস গণনার ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ এবং ফিকহ শাস্ত্রের পাশাপাশি আবহাওয়া অধিদপ্তরের বৈজ্ঞানিক তথ্য ও স্থানাঙ্ক সঠিকভাবে অনুসরণ করছে না। এর ফলে দেশের সাধারণ মুসলিমরা বেশ কিছু ধর্মীয় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন:
আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওআইসি-এর ফিকহ একাডেমি ১৯৮৬ সালের আম্মান কনফারেন্সে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল যে, যদি কোনো একটি দেশে চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত হয়, তবে বৈশ্বিক মুসলিম উম্মাহর তা অনুসরণ করা উচিত। সম্মেলনে পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারা, সূরা তাওবা ও সূরা ইউনুসসহ বিভিন্ন হাদিসের রেফারেন্স দিয়ে বলা হয়, চাঁদ গণনায় জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মানমন্দিরের বৈজ্ঞানিক সহায়তা নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাংলাদেশে কোনো দাপ্তরিক নিয়ম ছাড়াই কেবল সৌদি আরবের একদিন পরে মাস শুরু করার 'অলিখিত রেওয়াজ' অনুসরণ করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই সমস্যা সমাধানে ২০১৭ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাথে দুটি দ্বিপাক্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহর অসুস্থতা, পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কোভিড-১৯ মহামারি এবং সভাপতির ইন্তেকালের কারণে সেই প্রক্রিয়াটি মাঝপথে থেমে যায়। বর্তমানে সেই অসমাপ্ত আলোচনা পুনরায় শুরু করে স্থায়ী সমাধানের দাবি তুলেছেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাইয়্যিদ আবদুল্লাহ আল মারুফ, সাবেক ধর্মমন্ত্রী এম নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, দারুল উলুম হোসাইনিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মুফতি ড. নজরুল ইসলাম আল-মারুফসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা, পীর মাশায়েখ এবং গবেষকরা। সভায় চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, সাভার ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিরা সংহতি প্রকাশ করেন।
পরিশেষে, বক্তারা দেশের আপামর জনসাধারণের ইবাদতকে ত্রুটিমুক্ত করতে অনতিবিলম্বে সরকারি পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।